নারী প্রবাসী কর্মীর নিরাপদ কাজের জন্য যা জানা দরকার
পড়তে সময় লাগবে প্রায় ৩ মিনিট
অনেক নারী বিদেশে কাজ করে পরিবারকে সাহায্য করছেন। এটি সাহসী কাজ। কিন্তু নারী কর্মীরা, বিশেষ করে গৃহকর্ম বা ব্যক্তিগত বাড়িতে কাজ করার ক্ষেত্রে, কিছু বাড়তি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন। কাজের জায়গা ব্যক্তিগত হলে বাইরের মানুষ সহজে খোঁজ নিতে পারে না, ফলে সমস্যা চাপা পড়ে যায়।
এই লেখার উদ্দেশ্য ভয় দেখানো নয়, বরং প্রস্তুতি। কী যাচাই করবেন, কী আগে থেকে ঠিক করে রাখবেন আর বিপদে কোথায় যাবেন, তা জানা থাকলে ঝুঁকি অনেক কমে।
সতর্কতা: নিরাপদ ও বৈধ পথ ছাড়া যাবেন না। 'ভিজিট ভিসা', 'ঘরের কাজ নিশ্চিত' বা 'খুব বেশি বেতন'-এর কথা বলে যে ব্যক্তি আপনাকে নিয়ে যেতে চায়, তাকে অবিশ্বাস করুন। জরুরি অবস্থায় আপনার দেশের দূতাবাস ও আপনার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের পথ খোলা রাখুন।
যাওয়ার আগে যা যাচাই করবেন
- বৈধ এজেন্সি: এজেন্সি অনুমোদিত কি না যাচাই করুন। দেখুন রিক্রুটিং এজেন্সি ও ভিসার প্রস্তাব যাচাই করবেন কীভাবে।
- ওয়ার্ক ভিসা: নিশ্চিত হন ভিসা কাজের জন্য, ভিজিট বা পর্যটন ভিসা নয়। দেখুন ওয়ার্ক ভিসা, ভিজিট ভিসা ও ফ্রি ভিসার পার্থক্য কী।
- লিখিত চুক্তি: কাজের ধরন, বেতন, ছুটি, থাকার জায়গা, চিকিৎসা ও ফেরার ব্যবস্থা লেখা আছে কি না দেখুন। পড়ুন বিদেশের চাকরির চুক্তিপত্র কীভাবে পড়বেন।
- নিয়োগকর্তার তথ্য: নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর, যা পরিবারের কাছে থাকবে।
- প্রশিক্ষণ ও নিবন্ধন: সরকারি নিবন্ধন ও প্রস্তুতিমূলক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করুন। দেখুন বিদেশ যাওয়ার আগের প্রশিক্ষণ।
পরিবারের সঙ্গে যে তথ্য ভাগ করে যাবেন
- পাসপোর্ট, ভিসা ও চুক্তির ছবি।
- নিয়োগকর্তা ও এজেন্সির নাম, ঠিকানা, ফোন।
- বাংলাদেশ দূতাবাসের ঠিকানা ও নম্বর, যা পাওয়া যাবে প্রবাসে বাংলাদেশ দূতাবাসের সেবাগুলো কী কী লেখায় বর্ণিত পথে।
- কবে, কখন ফোনে কথা হবে তার একটি সময়সূচি।
পৌঁছানোর পর
- পৌঁছেই পরিবারকে জানান, নিয়োগকর্তার ঠিকানা মিলিয়ে নিন।
- পাসপোর্ট ও আসল কাগজ নিজের কাছে রাখার চেষ্টা করুন। কেউ রেখে দিলে রসিদ নিন। দেখুন নিয়োগকর্তা পাসপোর্ট রেখে দিলে করণীয়।
- নিজের ফোন নিজের কাছে রাখুন। ফোন কেড়ে নেওয়া বা পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে না দেওয়া সতর্ক হওয়ার লক্ষণ।
- কাজ চুক্তির চেয়ে বেশি বা আলাদা হলে লিখিতভাবে বা সাক্ষীর সামনে জানান।
বিপদের লক্ষণ
- বেতন দীর্ঘদিন না দেওয়া।
- অতিরিক্ত কাজ, ঘুম বা খাওয়ার সময় না দেওয়া।
- শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন, অপমান বা ভয় দেখানো।
- ঘর থেকে বের হতে না দেওয়া, যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া।
- যৌন হয়রানির চেষ্টা।
বিপদে কী করবেন
- সম্ভব হলে নিরাপদ জায়গায় যান এবং স্থানীয় জরুরি নম্বরে ফোন করুন।
- বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করুন। পথগুলো পাবেন বিদেশে বিপদে পড়লে কার কাছে সাহায্য চাইবেন লেখায়।
- পরিবারকে জানান, তারা দেশ থেকে সরকারি সংস্থা ও এজেন্সির কাছে অভিযোগ করতে পারবে।
- প্রমাণ জোগাড় করুন: ছবি, মেসেজ, বেতনের হিসাব।
সাধারণ ভুল
- লজ্জা বা ভয়ে সমস্যা চেপে যাওয়া।
- পরিচিত দালালের মুখের কথায় সব ছেড়ে দেওয়া।
- ফোন ও কাগজ অন্যের হাতে ছেড়ে দেওয়া।
অফিসিয়াল সূত্র (নিজে যাচাই করুন)
এই তথ্যগুলো বদলাতে পারে, তাই সিদ্ধান্তের আগে সরকারি বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সাইটে মিলিয়ে নিন। লিঙ্কগুলো নতুন ট্যাবে খুলবে।
- প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়: প্রবাসী কর্মীদের জন্য সরকারি তথ্য, সেবা ও অভিযোগের ব্যবস্থা।
- আইওএম (আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা): সাহায্য: অভিবাসী ও ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য সাহায্যের তথ্য।
- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনের তালিকা এবং কনস্যুলার সেবার তথ্য।
- আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও): শ্রম অধিকার ও কর্মক্ষেত্রের আন্তর্জাতিক মান নিয়ে তথ্য।