বিদেশে যাওয়ার আগে নিজের দক্ষতা কীভাবে বাড়াবেন
পড়তে সময় লাগবে প্রায় ৪ মিনিট
বিদেশে যাওয়ার পর একই দেশে একই বয়সের দুজন কর্মীর বেতন ও কাজের মান প্রায়ই আলাদা হয়। কারণ একজন একটি কাজ ভালোভাবে জানেন, অন্যজন শুধু "যেকোনো কাজ" করতে প্রস্তুত। যাঁর হাতে দক্ষতা থাকে, তাঁর কাজ পাওয়া, কাজ ধরে রাখা আর নিজের পক্ষে কথা বলা তুলনামূলক সহজ হয়।
এই লেখায় বলা হয়েছে, বিদেশে যাওয়ার আগের কয়েক মাসে কীভাবে নিজের দক্ষতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করবেন, কোন ধরনের দক্ষতা কাজে লাগে আর কীভাবে ভুয়া প্রশিক্ষণ থেকে নিজেকে বাঁচাবেন।
সতর্কতা: কোনো প্রশিক্ষণ বা সনদ দেখিয়ে কেউ যদি 'নিশ্চিত বিদেশের চাকরি' বা 'বেশি বেতন'-এর প্রতিশ্রুতি দেয়, তাহলে সাবধান হোন। কোনো প্রশিক্ষণই কাজ পাওয়ার নিশ্চয়তা দিতে পারে না।
প্রথমে ঠিক করুন, কোন কাজে যেতে চান
সবকিছু একসঙ্গে শেখার চেষ্টা করলে কিছুই ভালোভাবে শেখা হয় না। তাই আগে একটি কাজের দিক ঠিক করুন, তারপর সেটির জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা খুঁজে বের করুন।
- আপনি এখন কী কাজ জানেন বা আগে করেছেন? সেখান থেকেই শুরু করা সবচেয়ে সহজ।
- যে দেশে যেতে চান, সেখানে সেই কাজের চাহিদা আছে কি না, তা খোঁজ নিন। দেখুন মধ্যপ্রাচ্যে সাধারণত কোন কোন খাতে কাজের সুযোগ থাকে।
- সেই দেশের কাজের ভাষা কী, তা জানুন। ভাষা নিয়ে আছে কাজের জন্য ইংরেজি ও আরবি ভাষা শেখার সহজ উপায়।
কোন কোন ধরনের দক্ষতা কাজে লাগে
- হাতের কাজের দক্ষতা: রাজমিস্ত্রি, ওয়েল্ডিং, ইলেকট্রিক্যাল, প্লাম্বিং, ড্রাইভিং, সেলাই, রান্না ইত্যাদি। এসব দক্ষতায় অভিজ্ঞতা ও হাতে-কলমে অনুশীলন সবচেয়ে বড়।
- যন্ত্রপাতি চালানো: ভারী যন্ত্র, মেশিন বা বিশেষ সরঞ্জাম চালানোর অভিজ্ঞতা থাকলে নিয়োগকর্তা সহজে আস্থা পান।
- নিরাপত্তা-জ্ঞান: কাজের জায়গায় নিরাপত্তা নিয়ম বুঝে চলা, যা অনেক নিয়োগকর্তা গুরুত্ব দেন।
- ভাষা ও যোগাযোগ: কাজের নির্দেশ বোঝা, প্রয়োজন জানানো, বিপদে সাহায্য চাওয়ার মতো সাধারণ শব্দ।
- ডিজিটাল ব্যবহার: ফোনে ব্যাংক বা অ্যাপ ব্যবহার, ইমেইল, ছবি তোলা ও কাগজ সংরক্ষণ করার মতো সাধারণ দক্ষতা।
কোথায় ও কীভাবে শিখবেন
- সরকারি বা স্বীকৃত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র: প্রবাসী কর্মীদের জন্য সরকারি প্রশিক্ষণের তথ্য নিন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সূত্র থেকে। বিদেশ যাওয়ার আগের প্রশিক্ষণ নিয়ে আলাদা লেখা আছে: বিদেশ যাওয়ার আগের প্রশিক্ষণ: কেন দরকার ও কোথায় পাবেন।
- কাজের জায়গায় শেখা: কোনো অভিজ্ঞ কারিগরের সঙ্গে কিছুদিন কাজ করা। হাতে-কলমে শেখা সবচেয়ে বাস্তব শিক্ষা।
- অনলাইনে শেখা: ফোনে ভিডিও দেখে মূল বিষয় বোঝা যায়, তবে হাতে অনুশীলন ছাড়া দক্ষতা পাকা হয় না। দেখুন প্রবাসে থেকে অনলাইনে নতুন দক্ষতা শেখার উপায়।
একটি সহজ ৩ মাসের পরিকল্পনা
- প্রথম মাস: কাজ ও দেশ ঠিক করুন, প্রয়োজনীয় দক্ষতার তালিকা বানান। কোনো অভিজ্ঞ লোকের কাছে জানুন, নিয়োগকর্তারা কী দেখেন।
- দ্বিতীয় মাস: প্রশিক্ষণ বা হাতে-কলমে অনুশীলন শুরু করুন। প্রতি সপ্তাহে কী শিখলেন, লিখে রাখুন।
- তৃতীয় মাস: শেখা দক্ষতার প্রমাণ জোগাড় করুন: সনদ, কাজের ছবি বা আগের নিয়োগকর্তার সুপারিশ। সঙ্গে ভাষার প্রাথমিক শব্দ শিখুন।
ভুয়া প্রশিক্ষণ থেকে সাবধান
- "কোর্স করলেই বিদেশের চাকরি নিশ্চিত", এ ধরনের কথা বিশ্বাস করবেন না।
- টাকা দেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানটির স্বীকৃতি আছে কি না, জেনে নিন।
- কত টাকা, কত দিন, কী শেখানো হবে, সব লিখিতভাবে চান এবং রসিদ রাখুন।
- সনদের জন্য আলাদা মোটা টাকা চাইলে সতর্ক হোন।
সাধারণ ভুল
- বিদেশে গিয়ে শিখে নেব ভেবে কিছুই না শেখা।
- লোকের কথায় যে কাজে চাহিদা শুনেছেন, তার প্রতি ঝুঁকে পড়া, নিজের আগ্রহ বা পুরোনো অভিজ্ঞতা না দেখে।
- শুধু সনদ জোগাড় করা, অথচ হাতে-কলমে অনুশীলন না করা।
চুক্তিতে আপনার দক্ষতার সঙ্গে মিল রেখে কাজের শর্ত লেখা আছে কি না, তা দেখে নিতে পড়ুন বিদেশের চাকরির চুক্তিপত্র কীভাবে পড়বেন।
অফিসিয়াল সূত্র (নিজে যাচাই করুন)
এই তথ্যগুলো বদলাতে পারে, তাই সিদ্ধান্তের আগে সরকারি বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সাইটে মিলিয়ে নিন। লিঙ্কগুলো নতুন ট্যাবে খুলবে।
- প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়: প্রবাসী কর্মীদের জন্য সরকারি তথ্য, সেবা ও অভিযোগের ব্যবস্থা।
- আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও): শ্রম অধিকার ও কর্মক্ষেত্রের আন্তর্জাতিক মান নিয়ে তথ্য।
- সিঙ্গাপুরের মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় (MOM): সিঙ্গাপুরে ওয়ার্ক পাস ও কর্মক্ষেত্রের নিয়মের সরকারি তথ্য।