মধ্যপ্রাচ্যে সাধারণত কোন কোন খাতে কাজের সুযোগ থাকে
পড়তে সময় লাগবে প্রায় ৪ মিনিট
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বহু বাংলাদেশি কর্মী কাজ করেন। কিন্তু "মধ্যপ্রাচ্যে কাজ আছে" কথাটা যথেষ্ট নয়। কোন খাতে কী ধরনের কাজ, কী শর্তে কর্মী নেওয়া হয়, তা জানা দরকার, নইলে ভুল কাজের জন্য টাকা ও সময় নষ্ট হয়।
এই লেখায় সাধারণ কিছু খাতের পরিচয়, প্রতিটিতে কী কী মাথায় রাখবেন আর যে কোনো কাজের প্রস্তাব কীভাবে যাচাই করবেন, তা বলা হয়েছে। কোনো খাতে কত বেতন বা কত চাহিদা, তা এখানে বলা হয়নি, কারণ তা বদলায়।
সতর্কতা: কোন খাতে কখন কর্মী নেওয়া হচ্ছে, তা বছরে বছরে ও দেশভেদে বদলায়। এই লেখা শুধু সাধারণ ধারণা দেয়। নির্দিষ্ট কোনো দেশের নির্দিষ্ট কাজের প্রস্তাব এলে তা আলাদাভাবে যাচাই করুন।
সাধারণ কিছু খাত
১. নির্মাণ খাত
ভবন, সড়ক, সেতু ও অবকাঠামো তৈরির কাজে রাজমিস্ত্রি, রড-বাঁধাই, কাঠমিস্ত্রি, ওয়েল্ডার, পেইন্টার, সহকারী শ্রমিক ইত্যাদি লাগে। কাজ কায়িক এবং অনেক সময় রোদে বা গরমে হয়, তাই নিরাপত্তা নিয়ম, বিশ্রামের সময় আর স্বাস্থ্যবিমা আগে জেনে নিন।
২. আতিথেয়তা ও সেবা খাত
হোটেল, রেস্তোরাঁ, ক্যাটারিং, ক্লিনিং ও নিরাপত্তা সেবায় কর্মী লাগে। এখানে ভাষা ও আচরণ গুরুত্বপূর্ণ। শিফটের সময় এবং ওভারটাইম কীভাবে ধরা হয়, তা চুক্তিতে দেখে নিন।
৩. পরিবহন ও গুদামজাত
ড্রাইভিং, ডেলিভারি, গুদামের কাজ ও মালামাল সামলানো। ড্রাইভিংয়ে সংশ্লিষ্ট দেশের লাইসেন্স বা অনুমতির নিয়ম আলাদা। বাংলাদেশের লাইসেন্স সবখানে সরাসরি চলে না, তাই আগে নিয়ম জেনে নিন।
৪. উৎপাদন ও কারখানা
খাদ্য, প্লাস্টিক, পোশাক বা অন্যান্য কারখানায় অপারেটর ও সহকারী লাগে। শিফট ও ছুটির নিয়ম, থাকার ব্যবস্থা এবং যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা আগে জানুন।
৫. কৃষি ও পশুপালন
খামার, বাগান ও পশুপালনের কাজ। জায়গা প্রায়ই শহর থেকে দূরে হয়, তাই যাতায়াত, চিকিৎসা ও যোগাযোগের সুবিধা কেমন, জেনে নিন।
৬. গৃহকর্ম ও পরিচর্যা
পরিবারের ঘরের কাজ, শিশু বা বয়স্ক পরিচর্যা। এ খাতে বেশি নারী কর্মী যান। ঝুঁকি এখানে তুলনামূলক বেশি, কারণ কাজের জায়গা ব্যক্তিগত বাড়ি। দেখুন নারী প্রবাসী কর্মীর নিরাপদ কাজের জন্য যা জানা দরকার।
৭. কারিগরি ও পেশাদার কাজ
ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, এসি টেকনিশিয়ান, মেকানিক, অফিস সহকারী বা প্রযুক্তিবিদ। দক্ষ কর্মীদের জন্য কাজের সুযোগ ও সুবিধা তুলনামূলক ভালো হতে পারে। দক্ষতা বাড়ানোর উপায় আছে বিদেশে যাওয়ার আগে নিজের দক্ষতা কীভাবে বাড়াবেন লেখায়।
যেকোনো খাতের প্রস্তাব যাচাইয়ের ধাপ
- নিয়োগকর্তা আছে কি না: ভিসা ও চুক্তিতে নিয়োগকর্তার নাম ও কাজের ধরন স্পষ্ট কি না, দেখুন।
- এজেন্সি বৈধ কি না: দেখুন রিক্রুটিং এজেন্সি ও ভিসার প্রস্তাব যাচাই করবেন কীভাবে।
- চুক্তি পড়া: পড়ুন বিদেশের চাকরির চুক্তিপত্র কীভাবে পড়বেন।
- বেতন ও সুবিধা: দেখুন চাকরির প্রস্তাবে বেতন ও সুবিধা কীভাবে যাচাই করবেন।
- সরকারি ধাপ: বিএমইটি নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করুন।
দেশ বেছে নেওয়ার সময় যা ভাববেন
একই খাতে দেশভেদে নিয়ম, থাকার ব্যবস্থা ও ছুটির নিয়ম আলাদা হতে পারে। দেশ বাছাইয়ের সময় আরও কিছু বিষয় দেখুন: কোন দেশে কাজ করতে যাবেন? বেছে নেওয়ার আগে ৭টি বিষয়।
সাধারণ ভুল
- "সবাই যাচ্ছে" শুনে না বুঝে একই খাতে ঢুকে পড়া।
- কাজের ধরন না জেনে শুধু বেতনের কথা শুনে যাওয়া।
- মধ্যস্থতাকারীর মুখের কথায় বিশ্বাস করে চুক্তি ছাড়া ভিসা নেওয়া।
- নিজের স্বাস্থ্য ও কাজের ধরনের মিল না দেখা।
অফিসিয়াল সূত্র (নিজে যাচাই করুন)
এই তথ্যগুলো বদলাতে পারে, তাই সিদ্ধান্তের আগে সরকারি বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সাইটে মিলিয়ে নিন। লিঙ্কগুলো নতুন ট্যাবে খুলবে।
- প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়: প্রবাসী কর্মীদের জন্য সরকারি তথ্য, সেবা ও অভিযোগের ব্যবস্থা।
- বায়রা (রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সংগঠন): সদস্য রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা। এটি সরকারি সংস্থা নয়, এজেন্সিগুলোর সংগঠন।
- সৌদি মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়: সৌদি আরবের শ্রম মন্ত্রণালয় (সাইটটি আরবি ভাষায়)।
- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনের তালিকা এবং কনস্যুলার সেবার তথ্য।