বিদেশ যাওয়ার আগের প্রশিক্ষণ: কেন দরকার ও কোথায় পাবেন
পড়তে সময় লাগবে প্রায় ৪ মিনিট
অনেকে ভাবেন, বিদেশে যাওয়া মানে শুধু ভিসা আর টিকিট। আসলে যাঁরা প্রস্তুতি নিয়ে যান, তাঁরা সাধারণত ভালো বেতন, ভালো পরিবেশ আর কম সমস্যায় থাকেন। প্রশিক্ষণ সেই প্রস্তুতির একটা বড় অংশ। কখনো এটা সরকারি নিয়মের অংশ, আবার কখনো নিজের উদ্যোগে নেওয়া দক্ষতার প্রশিক্ষণ।
এই লেখায় তিন ধরনের প্রশিক্ষণ ধরে কথা বলা হয়েছে: পেশাগত দক্ষতা, ভাষা, আর যাত্রার আগের সাধারণ ধারণা। কোনটা কার জন্য বাধ্যতামূলক, তা পেশা ও গন্তব্যভেদে আলাদা, তাই সে বিষয়ে নিজে যাচাই করে নিতে হবে।
সতর্কতা: কোন প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক, কোথায় তা পাওয়া যায়, কত দিনের কোর্স এবং ফি কত, এসব সময়ে সময়ে বদলাতে পারে। এই লেখায় কোনো কোর্স ফি বা সময়ের অঙ্ক দেওয়া হয়নি। অফিসিয়াল সূত্র থেকে মিলিয়ে নিন।
১. পেশাগত দক্ষতার প্রশিক্ষণ
বিদেশে দক্ষ কর্মীর চাহিদা ও সম্মান দুটোই বেশি। যে কাজে যাবেন, সেই কাজের হাতেকলমে প্রশিক্ষণ নিলে:
- চাকরির প্রস্তাব পাওয়া সহজ হয়, কারণ নিয়োগকর্তারা দক্ষতার প্রমাণ দেখতে চান।
- কাজ শুরুর পর ভুল ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমে।
- বেতন ও পদোন্নতির সুযোগ বাড়ে।
সরকারি প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ কিছু প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন পেশার কোর্স দেয়। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সাইটে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের তালিকা আছে বলে সাইটের মেনুতে দেখা যায়। কোন কেন্দ্রে কোন পেশার কোর্স আছে, তা সরাসরি সেখানে দেখে নিন।
২. ভাষা শেখা
ভাষা না জানলে কাজের নির্দেশ বুঝতে পারবেন না, ঠিকমতো নিজের কথা বলতে পারবেন না, আর প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়বে। যে দেশে যাচ্ছেন, সেখানকার কাজের ভাষা বা অন্তত রোজকার কাজের শব্দ আগে থেকে শেখা ভালো।
- প্রতিদিন অল্প অল্প করে শিখুন। দিনে অল্প সময়ও নিয়মিত হলে বড় উন্নতি হয়।
- নিজের কাজ সংক্রান্ত শব্দ আগে শিখুন: যন্ত্রের নাম, নিরাপত্তার সতর্কবার্তা, সময় ও বেতন সংক্রান্ত কথা।
- সরকারি বা স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানে ভাষা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আছে কি না, মন্ত্রণালয়ের সাইটে খুঁজে দেখুন।
নিজের কাজের মূল কিছু শব্দ আগে শিখে নিলেও অনেক সুবিধা হয়।
৩. যাত্রা-পূর্ব ধারণা (অভিবাসন-পূর্ব ওরিয়েন্টেশন)
অনেক অভিবাসন ব্যবস্থায় কর্মীদের যাওয়ার আগে একটি পরিচিতিমূলক সেশন দেওয়া হয়। সেখানে সাধারণত এমন বিষয় থাকে:
- গন্তব্য দেশের আইন, সংস্কৃতি ও আচরণ
- কাজের চুক্তি, অধিকার ও দায়িত্ব
- নিরাপদ অভিবাসন, প্রতারণা থেকে বাঁচার উপায়
- বিপদে কার কাছে সাহায্য চাইবেন
এই সেশন বাধ্যতামূলক কি না, কোথায় ও কীভাবে হয়, তা আপনার ক্ষেত্রে এখনকার নিয়মে কী, জেনে নিন। বাধ্যতামূলক না হলেও যেখানে সুযোগ পাবেন, অংশ নিন।
কোন প্রশিক্ষণ আপনার জন্য? নিজেকে প্রশ্ন করুন
- আমি যে কাজে যাব, সেই কাজে আমার হাতেকলমে দক্ষতা কতটা আছে?
- চাকরির প্রস্তাবে কি দক্ষতার সনদ চাওয়া হয়েছে?
- যে ভাষায় কাজ হবে, তা আমি কতটা বুঝি?
- প্রথমবার বিদেশে যাচ্ছি কি না, আর কার কাছে সাহায্য চাইব তা জানি কি না?
চাকরির সুযোগ আর দেশ বাছার বিষয়ে আরও ধারণা পাবেন কোন দেশে কাজ করতে যাবেন? বেছে নেওয়ার আগে ৭টি বিষয় যাচাই করুন লেখায়।
ভুয়া বা প্রতারণামূলক প্রশিক্ষণ চিনবেন কীভাবে
- "প্রশিক্ষণ নিলেই নিশ্চিত চাকরি" ধরনের প্রতিশ্রুতি।
- সরকারি বা স্বীকৃত তালিকার বাইরের কেন্দ্র, যারা অনুমোদনের কাগজ দেখাতে চায় না।
- প্রশিক্ষণের সঙ্গে ভিসা বা চাকরি "প্যাকেজ" করে অস্বাভাবিক বেশি টাকা চাওয়া।
- সনদ দেওয়ার কথা বলে উপস্থিত না হয়েই "সার্টিফিকেট করে দেব" বলা। এমন সনদ পরে বিদেশে ধরা পড়লে বিপদ।
- রসিদ বা ক্লাসের সময়সূচি দিতে না চাওয়া।
দালাল ও প্রতারকের আরও লক্ষণ জানতে পড়ুন দালাল ও ভিসা প্রতারক চেনার লক্ষণ। প্রশিক্ষণ শেষে যে সনদ পাবেন, তা যাওয়ার কাগজের সঙ্গে রাখুন, দেখুন কাগজপত্রের তালিকা।
অফিসিয়াল সূত্র (নিজে যাচাই করুন)
প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের তালিকা ও নির্দেশনা এখানে দেখুন। লিঙ্কগুলো নতুন ট্যাবে খুলবে।
- প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়: মেনুতে "প্রশিক্ষণ" অংশে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের তালিকা ও প্রশিক্ষণের তথ্য আছে।
- অভিবাসন তথ্যকোষ (প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়): আদেশ, নির্দেশনা এবং বই, পুস্তিকা ও লিফলেটের শ্রেণি।