মালয়েশিয়ায় কাজ খোঁজার আগে যা জানা দরকার
পড়তে সময় লাগবে প্রায় ৩ মিনিট
মালয়েশিয়া বাংলাদেশি কর্মীদের কাছে পরিচিত একটি গন্তব্য। কিন্তু সময়ে সময়ে সেখানে কর্মী নেওয়ার নিয়ম বদলেছে, আর অনেকে প্রতারণার শিকারও হয়েছেন। তাই "মালয়েশিয়ায় কাজ আছে" এই কথা শুনে সরাসরি টাকা দেওয়ার আগে কয়েকটি জিনিস জেনে নেওয়া জরুরি।
এই লেখা মালয়েশিয়ার সব নিয়ম বলার চেষ্টা করছে না। বরং কাজ খোঁজার আগে কোন প্রশ্নগুলো করবেন, কোন ধাপ মেনে চলবেন এবং কোথায় সরকারি তথ্য পাবেন, তা বলছে।
সতর্কতা: মালয়েশিয়ায় কর্মী নেওয়ার নিয়ম, কোন খাতে নেওয়া হয় এবং কোন দেশ থেকে নেওয়া হয়, তা সরকার সময়ে সময়ে বদলাতে পারে। যেকোনো প্রস্তাবে টাকা দেওয়ার আগে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও মালয়েশিয়ার সরকারি সূত্রে বর্তমান অবস্থা দেখে নিন।
প্রথম যে প্রশ্নগুলো করবেন
- এই মুহূর্তে সরকারিভাবে কর্মী নেওয়া হচ্ছে কি? কোনো সময়ে কর্মী পাঠানো বন্ধ থাকতে পারে বা নির্দিষ্ট খাতের জন্য খোলা থাকতে পারে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে বর্তমান তথ্য দেখুন।
- কোন খাতে কাজ? উৎপাদন, নির্মাণ, বৃক্ষরোপণ বা সেবা, খাতভেদে শর্ত আলাদা।
- নিয়োগকর্তা কে? তাঁর নাম ও কোম্পানি ভিসায় ও চুক্তিতে লেখা আছে কি না, দেখুন।
- এজেন্সি বৈধ কি না? যাচাই করুন রিক্রুটিং এজেন্সি ও ভিসার প্রস্তাব যাচাই করবেন কীভাবে লেখা পড়ে।
সরকারি পথ ও নিবন্ধন
বাংলাদেশ থেকে কাজে যেতে হলে নির্ধারিত সরকারি ধাপ মানতে হয়, যেমন বিএমইটি নিবন্ধন ও স্মার্ট কার্ড (বিস্তারিত পড়ুন), স্বাস্থ্য পরীক্ষা (স্বাস্থ্য পরীক্ষা কীভাবে হয়) ও প্রশিক্ষণ (প্রস্তুতিমূলক প্রশিক্ষণ)। এসব ধাপ বাদ দিয়ে "সহজ পথে" যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।
ভিসা ও চুক্তি
- পাসপোর্টের তথ্য ভিসা ও চুক্তির তথ্যের সঙ্গে হুবহু মিলতে হবে।
- চুক্তিতে বেতন, কাজের সময়, ওভারটাইম, ছুটি, থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসার শর্ত লেখা আছে কি না দেখুন।
- কাজের ধরন ভিসা ও চুক্তিতে এক কি না, মিলিয়ে নিন। পদ্ধতি পাবেন ভিসা ও কাজের চুক্তি মিলিয়ে দেখবেন কীভাবে লেখায়।
- ভিজিট ভিসা বা পর্যটন ভিসায় গিয়ে কাজ খোঁজা ঝুঁকিপূর্ণ। পার্থক্য দেখুন ওয়ার্ক ভিসা, ভিজিট ভিসা ও ফ্রি ভিসার পার্থক্য কী লেখায়।
খরচ নিয়ে সতর্কতা
অতীতে অনেকে অতিরিক্ত অঙ্কের টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। কত টাকা বৈধ খরচ, তা সরকারি সূত্র থেকে নিজে দেখে নিন (যাচাই করুন)। টাকা দিলে প্রতিটি লেনদেনের রসিদ নিন। খরচের হিসাব রাখার উপায় আছে বিদেশ যাওয়ার খরচের হিসাব কীভাবে রাখবেন লেখায়।
পৌঁছানোর পর কী মাথায় রাখবেন
- পাসপোর্ট ও ভিসার কপি রাখুন, আসল কাগজ কার কাছে থাকবে তা পরিষ্কার জানুন।
- থাকার জায়গা, কাজের সময় ও বেতন চুক্তি অনুযায়ী হচ্ছে কি না দেখুন।
- সমস্যা হলে কার কাছে যাবেন তা আগে জানুন: বিদেশে বিপদে পড়লে কার কাছে সাহায্য চাইবেন।
সাধারণ ভুল
- পরিচিতজনের কথায় বিশ্বাস করে এজেন্সি যাচাই না করা।
- অনুমোদন ছাড়া "দ্রুত ভিসা" বা "ব্যক্তিগত ভিসা" কেনা।
- চুক্তি না পড়ে সই করা বা সই করার সময় ভাষা না বুঝে কাগজে দস্তখত দেওয়া।
- কাজের অনুমতি ছাড়া অন্য ভিসায় গিয়ে কাজ শুরু করা।
অফিসিয়াল সূত্র (নিজে যাচাই করুন)
এই তথ্যগুলো বদলাতে পারে, তাই সিদ্ধান্তের আগে সরকারি বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সাইটে মিলিয়ে নিন। লিঙ্কগুলো নতুন ট্যাবে খুলবে।
- প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়: প্রবাসী কর্মীদের জন্য সরকারি তথ্য, সেবা ও অভিযোগের ব্যবস্থা।
- বায়রা (রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সংগঠন): সদস্য রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা। এটি সরকারি সংস্থা নয়, এজেন্সিগুলোর সংগঠন।
- মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ: মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশনের সরকারি পোর্টাল।
- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনের তালিকা এবং কনস্যুলার সেবার তথ্য।