ভিসা ও কাজের চুক্তি মিলিয়ে দেখবেন কীভাবে
পড়তে সময় লাগবে প্রায় ৪ মিনিট
বিদেশে গিয়ে অনেক কর্মী দেখেন, তাঁর ভিসায় এক পদ লেখা, কাজ করতে হচ্ছে অন্য কাজ, আর বেতন চুক্তির চেয়ে কম। কেউ কেউ বুঝতে পারেন যে ভিসায় নিয়োগকর্তার নাম এক কোম্পানির, আর কাজ করতে হচ্ছে অন্য কোম্পানিতে। এসব সমস্যার অনেকগুলো যাওয়ার আগেই ধরা পড়তে পারত, যদি ভিসা আর চুক্তি পাশাপাশি রেখে মিলিয়ে দেখা হতো।
এই লেখায় কী কী মিলিয়ে দেখবেন, কোন গরমিলকে গুরুত্ব দেবেন আর সন্দেহ হলে কী করবেন, তা ধাপে ধাপে বলা হলো।
সতর্কতা: ভিসা ও চুক্তির কোন অংশে কী লেখা থাকে, তা দেশ ও ভিসার ধরনভেদে আলাদা। এই লেখা আইনি পরামর্শ নয়। কোনো কাগজ নিয়ে সন্দেহ থাকলে সই করার আগে অফিসিয়াল সূত্র, দূতাবাস বা বিশ্বস্ত আইনি সহায়তার সাহায্য নিন।
কেন মেলানো দরকার
- ভিসা ও চুক্তি এক না হলে বিদেশে আপনার আইনি অবস্থা দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
- অভিযোগ করার সময় কাগজ দেখে প্রমাণ করতে হয় কী কথা ছিল।
- ভিসায় যে কাজ লেখা নেই, সেই কাজ করাকে কোনো কোনো দেশে নিয়মভঙ্গ ধরা হতে পারে।
ধাপ ১: তিনটি কাগজ পাশাপাশি রাখুন
সব কাগজ একসঙ্গে টেবিলে রাখুন: ভিসা, নিয়োগকর্তার চাহিদাপত্র বা প্রস্তাবপত্র এবং চাকরির চুক্তি। এজেন্সি কেবল মুখে বললে বা ছবি দেখালে চলবে না, কাগজ হাতে নিয়ে মেলান। আসল না পেলে অন্তত পরিষ্কার কপি চেয়ে নিন।
ধাপ ২: কী কী মেলাবেন
| বিষয় | ভিসায় কী দেখবেন | চুক্তিতে কী দেখবেন |
|---|---|---|
| আপনার পরিচয় | নাম, জন্মতারিখ, পাসপোর্ট নম্বর | একই নাম, জন্মতারিখ, পাসপোর্ট নম্বর |
| ভিসার ধরন | কাজের ভিসা কি না, মেয়াদ | কাজের কথা ও মেয়াদ কি ভিসার সঙ্গে মেলে |
| নিয়োগকর্তা | কোম্পানি বা ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা | একই নিয়োগকর্তার নাম ও ঠিকানা |
| পদ ও কাজ | ভিসায় লেখা পদ (থাকলে) | আপনার পদ ও কাজের বিবরণ |
| বেতন ও সুবিধা | সাধারণত ভিসায় থাকে না | বেতন, ওভারটাইম, থাকা-খাওয়া, চিকিৎসা, ছুটি |
| দেশে ফেরার টিকিট | সাধারণত ভিসায় থাকে না | কে দেবে, কখন দেবে |
| চুক্তির মেয়াদ | ভিসার মেয়াদের সঙ্গে তুলনা করুন | চুক্তি কত বছর, নবায়নের শর্ত |
এই ছক শুধু একটি সহজ নমুনা। আপনার কাগজে আরও বিষয় থাকতে পারে। প্রতিটি ঘরে "মিলেছে" বা "মেলেনি" লিখে নিজের একটা তালিকা বানান।
ধাপ ৩: নামের বানান ও পরিচয়
- আপনার নাম, জন্মতারিখ, পাসপোর্ট নম্বর: ভিসায় আর চুক্তিতে পাসপোর্টের সঙ্গে হুবহু মিলতে হবে।
- বাবা-মায়ের নাম বা অন্য তথ্য চাইলে সেগুলোও কাগজে একই কি না দেখুন।
ধাপ ৪: ভাষা ও সই
- চুক্তি যে ভাষায় লেখা, সেই ভাষা আপনি বোঝেন কি না ভাবুন। না বুঝলে নিজের ভাষায় অনুবাদ চেয়ে নিন।
- সই করার আগে প্রতিটি পাতা পড়ুন। শুধু শেষ পাতায় সই চাইলে সতর্ক হোন।
- সই করা চুক্তির একটি পূর্ণ কপি আপনার হাতে রাখুন।
নিয়ম একটাই: যা বুঝতে পারছেন না, সই করার আগে লিখে প্রশ্ন করুন।
গরমিল পেলে কী করবেন
- থামুন: গরমিল নিয়ে চুপ করে এগোবেন না। সই বা টাকা দেওয়া বন্ধ রাখুন।
- লিখিত প্রশ্ন করুন: এজেন্সি বা নিয়োগকর্তাকে কেন মিলছে না, লিখিতভাবে জিজ্ঞেস করুন। উত্তরের কপি রাখুন।
- সংশোধনের দাবি: কাগজ ঠিক করে নিতে বলুন, মুখের আশ্বাসে সন্তুষ্ট হবেন না।
- যাচাই করুন: সন্দেহ থাকলে অফিসিয়াল সূত্র ও এজেন্সির বৈধতা মিলিয়ে নিন। পড়ুন রিক্রুটিং এজেন্সি ও ভিসার প্রস্তাব যাচাইয়ের গাইড।
- পরিবারকে জানান: কাগজের কপি পরিবারের কাছে রাখুন এবং সমস্যা হলে কাকে জানাবেন, ঠিক করে নিন।
যেসব গরমিল গুরুতর বিপদের লক্ষণ
- ভিসায় নিয়োগকর্তার নাম আর চুক্তিতে নাম আলাদা কোম্পানির।
- ভিসা পর্যটক বা ভিজিট ধরনের, অথচ চুক্তিতে কাজের কথা লেখা।
- চুক্তিতে বেতন লেখা নেই বা "আলোচনা সাপেক্ষে" শব্দ।
- চুক্তির কপি আপনাকে দিতে চায় না।
- ভিসা বা চুক্তি বিদেশ পৌঁছানোর পর "ঠিক করে দেওয়া হবে" বলা।
এই ধরনের লক্ষণ প্রতারণার সঙ্গেও মিলে যায়। বিস্তারিত দেখুন দালাল ও ভিসা প্রতারক চেনার লক্ষণ। আর বিদেশে গিয়ে সমস্যা হলে দেখুন বিদেশে বিপদে পড়লে কার কাছে সাহায্য চাইবেন।
অফিসিয়াল সূত্র (নিজে যাচাই করুন)
কোন ধরনের ভিসা ও চুক্তি বৈধ এবং কী কী থাকতে হয়, তা অফিসিয়াল সূত্রে মিলিয়ে নিন। লিঙ্কগুলো নতুন ট্যাবে খুলবে।
- প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়: বিদেশে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত সরকারি তথ্য ও নির্দেশনা।
- BAIRA: রিক্রুটিং এজেন্সিদের সংগঠনের সাইট। সদস্য এজেন্সির তথ্য ও নিয়মনীতির লিঙ্ক আছে।