মূল লেখায় যান
সাবাশ বাংলাদেশ
বিদেশ যাওয়ার আগে

বিদেশ যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা

পড়তে সময় লাগবে প্রায় ৪ মিনিট

বিদেশ যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা

বিদেশ যাওয়ার দিন যত ঘনিয়ে আসে, কাগজপত্রের চিন্তা তত বাড়ে। কোনো একটা কাগজ ভুল থাকলে বা হাতের কাছে না পেলে বিমানবন্দরে আটকে যেতে পারেন, আবার বিদেশে পৌঁছানোর পর অসুবিধায় পড়তে পারেন। তাই যাওয়ার অন্তত কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই কাগজ গোছানো শুরু করা ভালো।

এই লেখায় কাগজগুলোকে কয়েকটি ভাগে সাজানো হয়েছে। আপনার দেশ, পেশা ও ভিসার ধরন অনুযায়ী তালিকা কিছুটা আলাদা হতে পারে। তাই এটাকে শুরুর তালিকা হিসেবে নিন, তারপর আপনার এজেন্সি ও সরকারি সূত্র থেকে মিলিয়ে নিন।

সতর্কতা: কোন কাগজ লাগবে, কোনটা সত্যায়িত করতে হবে বা কোনটার কত মাস মেয়াদ থাকতে হবে, তা গন্তব্য দেশ ও সময়ভেদে বদলায়। নিচের তালিকার কোন কাগজ আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তা অফিসিয়াল সূত্র বা দূতাবাস থেকে নিজে নিশ্চিত হয়ে নিন।

১. পরিচয় ও ভ্রমণের কাগজ

  • পাসপোর্ট: মেয়াদ কত মাস বাকি থাকতে হবে, তা গন্তব্য দেশের নিয়ম অনুযায়ী আলাদা। মেয়াদ কম থাকলে আগে নবায়ন করে নিন।
  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা জন্মনিবন্ধন সনদ: নামের বানান, জন্মতারিখ ও বাবা-মায়ের নাম পাসপোর্টের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।
  • পাসপোর্ট সাইজের ছবি: ছবির মাপ ও পটভূমির রং দেশভেদে আলাদা হয়। এজেন্সি বা দূতাবাসের চাওয়া মাপে তোলা ছবি দিন।

নামের বানান বা জন্মতারিখে সামান্য গরমিল থাকলেও পরে ভিসা, টিকিট বা চাকরির কাগজে সমস্যা হতে পারে। যাওয়ার আগেই সব কাগজে নামের বানান এক কি না, দেখে নিন।

২. ভিসা ও চাকরির কাগজ

  • ভিসা: ভিসার ধরন (কাজের ভিসা কি না), মেয়াদ ও নিয়োগকর্তার নাম ঠিক আছে কি না দেখুন। ভিসা ঠিক আছে কি না যাচাই করার পদ্ধতি নিয়ে আমাদের রিক্রুটিং এজেন্সি ও ভিসার প্রস্তাব যাচাইয়ের গাইড পড়ুন।
  • চাকরির প্রস্তাবপত্র বা চাহিদাপত্র: নিয়োগকর্তা কে, আপনার পদ কী, তা লিখিতভাবে থাকা চাই।
  • চাকরির চুক্তিপত্র: বেতন, কাজের সময়, ছুটি, থাকা-খাওয়া, দেশে ফেরার টিকিট: সব লেখা আছে কি না দেখুন। চুক্তি আর ভিসা মেলানোর উপায় আছে ভিসা ও কাজের চুক্তি মিলিয়ে দেখবেন কীভাবে লেখায়।
  • এজেন্সির সঙ্গে চুক্তি ও রসিদ: এজেন্সিকে যা কিছু দিয়েছেন, তার লিখিত হিসাব ও সই করা রসিদ।

৩. সরকারি নিবন্ধন ও ছাড়পত্র

বৈধভাবে কাজের জন্য বিদেশে যেতে হলে সরকারি নিবন্ধন ও অনুমোদনের কিছু ধাপ থাকে। কোন ধাপে কোন কাগজ দেওয়া হয়, তা সময়ে সময়ে বদলাতে পারে।

৪. স্বাস্থ্য পরীক্ষার কাগজ

  • অনুমোদিত কেন্দ্র থেকে করা স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট, যদি গন্তব্য দেশ চায়।
  • টিকার সনদ, যদি দেশটি বা বিমান সংস্থা চায়।

কোন কেন্দ্র থেকে পরীক্ষা করাতে হবে, রিপোর্টের মেয়াদ কত, সবই দেশভেদে আলাদা। পড়ুন বিদেশ যাওয়ার আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কীভাবে হয়।

৫. শিক্ষা ও দক্ষতার সনদ

  • শিক্ষাগত সনদ, প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতার সনদ। অনেক সময় এগুলো সত্যায়িত করতে হয়, কীভাবে করতে হয় তা আগে জেনে নিন।
  • পুরনো কাজের অভিজ্ঞতার চিঠি, যদি থাকে। এতে বিদেশে ভালো কাজ পেতে সুবিধা হয়।

৬. জরুরি ও ব্যক্তিগত কাগজ

  • পরিবারের সদস্যদের ফোন নম্বর ও ঠিকানা কাগজে লেখা।
  • গন্তব্যে বাংলাদেশ দূতাবাসের ঠিকানা ও ফোন নম্বর। দূতাবাসের সাহায্য নিয়ে বিস্তারিত পাবেন বিদেশে বিপদে পড়লে কার কাছে সাহায্য চাইবেন লেখায়।
  • বিমানের টিকিটের কপি ও যে ঠিকানায় প্রথমে উঠবেন, তা।

কাগজ গুছিয়ে রাখার নিয়ম

  1. তিন সেট কপি: একটি আপনার সঙ্গে (আসলের বাইরে), একটি পরিবারের কাছে, একটি ফোনে ও ইমেইলে ছবি বা স্ক্যান করে।
  2. আসল কাগজ আলাদা রাখুন: পাসপোর্ট, ভিসা আর চুক্তির আসল কপি একটি শক্ত ফোল্ডারে, হাতব্যাগে রাখুন। পরীক্ষা করা লাগেজে নয়।
  3. প্লাস্টিক কভার: বৃষ্টি বা ঘামে কাগজ নষ্ট হয়, তাই জলরোধী কভার ব্যবহার করুন।
  4. তালিকা ধরে টিক দিন: প্রতিটি কাগজের পাশে তারিখ লিখে টিক দিন, যাওয়ার আগের রাতে আরেকবার মিলিয়ে নিন।
সতর্কতা: কাউকে আপনার পাসপোর্ট বা আসল কাগজ রেখে দিতে দেবেন না। এজেন্সি বা দালাল চাইলে ফটোকপি দিন। কাজ শেষ হলে আসল ফেরত নিন।

অফিসিয়াল সূত্র (নিজে যাচাই করুন)

কোন ধাপে কোন কাগজ লাগে, তার সবচেয়ে হালনাগাদ তথ্য অফিসিয়াল সাইটে পাবেন। লিঙ্কগুলো নতুন ট্যাবে খুলবে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

উত্তরগুলো খোলা আছে। কোনো প্রশ্নে চাপ দিলে সেটা বন্ধ হবে, আবার চাপলে খুলবে।

বিদেশ যাওয়ার সময় আসল কাগজ কোথায় রাখব?
পাসপোর্ট, ভিসা, চুক্তি ও টিকিটের আসল কপি একটি শক্ত, জলরোধী ফোল্ডারে হাতব্যাগে রাখুন, পরীক্ষা করা লাগেজে নয়। এর বাইরে ফোনে ও ইমেইলে একটি করে ডিজিটাল কপি এবং পরিবারের কাছে একটি ফটোকপি রাখুন।
কাগজে নামের বানান ভুল থাকলে কী করব?
যাওয়ার আগেই ঠিক করে নিন। পাসপোর্ট, NID, ভিসা, চুক্তি ও টিকিটে নামের বানান একই থাকা জরুরি। ভুল পেলে যে প্রতিষ্ঠান কাগজটি দিয়েছে, সেখানে সংশোধনের নিয়ম জেনে নিন। সংশোধনে সময় লাগে, তাই দেরি করবেন না।
কোন কাগজ সত্যায়িত করতে হবে কীভাবে জানব?
এটা গন্তব্য দেশ ও পেশার ওপর নির্ভর করে। আপনার নিয়োগকর্তা বা এজেন্সিকে লিখিতভাবে জিজ্ঞেস করুন কোন কাগজ সত্যায়িত লাগবে, তারপর সেই দেশের দূতাবাস বা অফিসিয়াল সূত্রে নিজে মিলিয়ে নিন।
কাগজ হারিয়ে গেলে বিদেশে কী হবে?
সেজন্যই ফোনে ও ইমেইলে ছবি রাখতে বলা হয়। কাগজ হারালে সঙ্গে সঙ্গে নিয়োগকর্তা, বাংলাদেশ দূতাবাস ও পরিবারকে জানান। আসল পাসপোর্ট হারালে দ্রুত দূতাবাসে যোগাযোগ করা দরকার।
এজেন্সি আমার পাসপোর্ট রেখে দিতে চাইলে কি দেব?
প্রয়োজনীয় ধাপের জন্য সাময়িক জমা দেওয়া আর পাসপোর্ট আটকে রাখা এক নয়। জমা দিলে রসিদ নিন, কোন কাজের জন্য কত দিন রাখা হবে তা লিখে নিন। কেউ অকারণে ফেরত দিতে না চাইলে সতর্ক হোন এবং অফিসিয়াল সূত্রে অভিযোগের পথ দেখুন।

লেখাটি শেয়ার করুন

হোয়াটসঅ্যাপ ফেসবুক মেসেঞ্জার

বিদেশ যাওয়ার আগে

বিএমইটি নিবন্ধন ও স্মার্ট কার্ড: কী, কেন, কীভাবে

বৈধভাবে কাজের জন্য বিদেশে যেতে হলে বিএমইটি-তে নিবন্ধনের কথা বারবার শোনা যায়। এই নিবন্ধন কী, কেন গুরুত্বপূর্ণ, কীভাবে এগ...

বিদেশ যাওয়ার আগে

প্রথমবার বিদেশে গেলে বিমানবন্দরে কী কী করবেন

প্রথমবার বিমানবন্দরে গেলে ভয়, তাড়াহুড়ো আর দালালের ফাঁদ তিনটাই থাকে। ঘর থেকে বের হওয়া থেকে গন্তব্যে পৌঁছানো পর্যন্ত ক...

বিদেশ যাওয়ার আগে

বিদেশ যাওয়ার আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা (মেডিকেল) কীভাবে হয়

অনেক দেশে কাজের ভিসার আগে নির্ধারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা লাগে। কোথায় করাবেন, কী কী পরীক্ষা হতে পারে, কীভাবে প্রস্তুতি নেবে...