প্রথমবার বিদেশে গেলে বিমানবন্দরে কী কী করবেন
পড়তে সময় লাগবে প্রায় ৪ মিনিট
প্রথমবার বিমানবন্দরে গেলে প্রায় সবারই বুক ধুকপুক করে। কোন লাইনে দাঁড়াব, কোন কাগজ কাকে দেখাব, কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে কী বলব: এসব নিয়ে দুশ্চিন্তা হওয়া স্বাভাবিক। ভালো খবর হলো, ধাপগুলো মোটামুটি একই রকম, আর আগে থেকে জেনে গেলে ভয় অনেক কমে যায়।
এই লেখায় বাড়ি থেকে বের হওয়া থেকে গন্তব্যে পৌঁছে প্রথম কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত সাধারণ ধাপ সাজানো হলো। কোন বিমানবন্দরে কোন ধাপ কীভাবে হয়, তা আলাদা হতে পারে, তাই বিমান সংস্থা ও অফিসিয়াল নির্দেশনা সঙ্গে মিলিয়ে নেবেন।
সতর্কতা: কত ঘণ্টা আগে পৌঁছাতে হবে, কোন কাউন্টারে কী কাগজ দেখাতে হবে, আর অভিবাসী কর্মীদের জন্য আলাদা কোনো ধাপ আছে কি না, এসব বিমানবন্দর ও সময়ভেদে বদলায়। এই লেখায় কোনো সময় বা কাউন্টারের নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। যাওয়ার আগে বিমান সংস্থা ও অফিসিয়াল সূত্র থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন।
যাওয়ার আগের দিন
- কাগজ মেলান: পাসপোর্ট, ভিসা, টিকিট, চুক্তি ও সরকারি কাগজ হাতব্যাগে। তালিকা দেখুন কাগজপত্রের তালিকায়।
- ব্যাগ গুছিয়ে ওজন দেখুন: দেখুন ব্যাগে কী নেবেন, কী নেবেন না।
- ফোন চার্জ দিন: ফোন, পাওয়ার ব্যাংক চার্জ করুন।
- যাতায়াত ঠিক করুন: বিমানবন্দরে কীভাবে যাবেন, যানজট ধরে কখন বের হবেন, আগে ভেবে রাখুন।
- পরিবারকে জানান: ফ্লাইটের সময় ও নম্বর পরিবারের একজনকে দিন।
ধাপ ১: বিমানবন্দরে পৌঁছানো
ফ্লাইটের কত আগে পৌঁছাতে হবে, তা টিকিট বা বিমান সংস্থার নির্দেশনায় থাকে। দেরি করে পৌঁছালে ফ্লাইট ধরতে না-ও পারেন, তাই বাড়তি সময় নিয়ে বের হন। ভেতরে ঢোকার আগে প্রয়োজনীয় কাগজ দেখাতে হতে পারে।
ধাপ ২: চেক-ইন ও লাগেজ জমা
- আপনার বিমান সংস্থার কাউন্টারে লাইনে দাঁড়ান। টিকিট ও পাসপোর্ট দেখান।
- লাগেজ জমা দিন এবং ব্যাগের ট্যাগ ও বোর্ডিং পাস হাতে নিন।
- বোর্ডিং পাসে নাম, ফ্লাইট নম্বর, গেট ও সময় ঠিক আছে কি না দেখুন।
- বোর্ডিং পাস আর লাগেজের ট্যাগের একটা ছবি তুলে রাখুন।
ধাপ ৩: অভিবাসন ও সরকারি যাচাই
আপনার কাগজপত্র যাচাইয়ের একটি বা একাধিক ধাপ থাকতে পারে। অভিবাসী কর্মী হিসেবে কিছু অতিরিক্ত নথি বা ছাড়পত্র দেখাতে হতে পারে। কাউন্টারে কর্মকর্তা প্রশ্ন করলে:
- শান্ত থাকুন এবং সত্য উত্তর দিন।
- কোথায় যাচ্ছেন, কী কাজে, নিয়োগকর্তা কে: এই সাধারণ প্রশ্নের উত্তর আগে থেকে ঠিক করে রাখুন।
- কাগজ সাজানো থাকলে দেখাতে সহজ হবে।
কাগজে সমস্যা থাকলে (যেমন নামের বানান বা ভিসা) যাত্রা আটকে যেতে পারে, তাই বাড়ি থেকেই ভালো করে মিলিয়ে নিয়ে আসবেন। দেখুন ভিসা ও কাজের চুক্তি মিলিয়ে দেখবেন কীভাবে।
ধাপ ৪: নিরাপত্তা তল্লাশি ও অপেক্ষা
- হাতব্যাগের জিনিস (ফোন, বেল্ট, পকেটের জিনিস) আলাদা করে তল্লাশির জন্য দিতে হতে পারে।
- তরল, ধারালো জিনিস ও নিষিদ্ধ জিনিস আগেই বাদ দিন।
- বোর্ডিংয়ের আগে খাবার, পানি ও টয়লেট সেরে রাখুন।
- গেটে সময়মতো যান। গেট বদলে যেতে পারে, তাই স্ক্রিনে মাঝে মাঝে দেখুন।
ধাপ ৫: বিমানে ও পথে
- আসনে গিয়ে বসে হাতব্যাগ ঠিকঠাক রাখুন। আসল কাগজ হাতব্যাগে, উপরের তাকে নয়, সঙ্গে রাখুন।
- বিমানবালা বা ক্রু-এর নির্দেশ মেনে চলুন।
- ফর্ম (অভিবাসন বা স্বাস্থ্য ঘোষণা) পূরণ করতে দিলে সত্যি ও পরিষ্কারভাবে ভরুন। এজন্য একটা কলম হাতে রাখলে সুবিধা হয়।
- ট্রানজিট (মাঝপথে ফ্লাইট বদল) থাকলে পরবর্তী গেটের তথ্য ভালো করে জেনে নিন এবং অপরিচিত কারও সঙ্গে চলবেন না।
ধাপ ৬: গন্তব্যে পৌঁছে
- অভিবাসন কাউন্টার: পাসপোর্ট, ভিসা ও কাজের কাগজ দেখান। প্রশ্ন করলে শান্তভাবে উত্তর দিন।
- লাগেজ সংগ্রহ: ট্যাগ মিলিয়ে নিজের লাগেজ নিন। না পেলে বের হওয়ার আগেই বিমান সংস্থার লাগেজ ডেস্কে অভিযোগ করুন।
- শুল্ক: সঙ্গের জিনিস নিয়ে নিয়মমতো যান। ঘোষণা দেওয়ার মতো কিছু থাকলে দিন।
- নিয়োগকর্তা বা প্রতিনিধির সঙ্গে দেখা: আগে থেকে যার সঙ্গে ঠিক হয়েছে, তার নাম ও ফোন নম্বর হাতে রাখুন। অচেনা কেউ "আপনাকে নিতে এসেছি" বললে নিশ্চিত না হয়ে যাবেন না।
- পরিবারকে জানান: পৌঁছেই পরিবারকে খবর দিন।
বিমানবন্দরে যেসব ফাঁদ থেকে বাঁচবেন
- "সাহায্য" করার নামে টাকা চাওয়া: যারা নিজেকে কর্মকর্তা বা সাহায্যকারী বলে, কিন্তু পরিচয়পত্র দেখাতে চায় না।
- অচেনা মানুষের প্যাকেট: কেউ "একটু এটা ধরুন" বা "অমুকের কাছে পৌঁছে দিন" বললে না বলুন।
- কাগজ হাতে দেওয়া: আপনার পাসপোর্ট ও ভিসা কাউকে সঙ্গে সঙ্গে হাতে দেবেন না, শুধু যিনি সরকারি কর্মকর্তা এবং দায়িত্বে আছেন, তাঁকে।
- বাড়তি টাকা দাবি: কোনো ধাপ "দ্রুত করিয়ে দেওয়ার" নামে ঘুষ দেওয়া বা দেওয়ার প্রস্তাব এড়ান। এটা আইনবিরুদ্ধ হতে পারে এবং আপনাকেই বিপদে ফেলবে।
আরও পড়ুন: দালাল ও ভিসা প্রতারক চেনার লক্ষণ। গন্তব্যে পৌঁছে বিপদে পড়লে কার কাছে সাহায্য চাইবেন, তা জানতে দেখুন বিদেশে বিপদে পড়লে কার কাছে সাহায্য চাইবেন।
অফিসিয়াল সূত্র (নিজে যাচাই করুন)
যাওয়ার সময় সরকারি ধাপ ও নির্দেশনা এখানে মিলিয়ে নিন। লিঙ্কগুলো নতুন ট্যাবে খুলবে।
- প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়: প্রবাসী কর্মীদের জন্য নির্দেশনা ও যোগাযোগের তথ্য।
- অভিবাসন তথ্যকোষ (প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়): আদেশ, নির্দেশনা এবং বই, পুস্তিকা ও লিফলেটের শ্রেণি।