প্রথমবার বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি: ব্যাগে কী নেবেন, কী নেবেন না
পড়তে সময় লাগবে প্রায় ৪ মিনিট
প্রথমবার বিদেশে যাওয়ার আগে ব্যাগ গোছানো নিয়ে সবারই চিন্তা হয়: কী নেব, কী ফেলে যাব, আবার বিমানবন্দরে কিছু আটকে গেলে কী হবে। দেখা যায়, যাঁরা অতিরিক্ত নিতে গিয়ে ভারী লাগেজ বানান, তাঁদের বিমানবন্দরে ঝামেলা বাড়ে, আর যাঁরা জরুরি জিনিস ভুলে যান, তাঁদের বিদেশে প্রথম সপ্তাহ কষ্টে কাটে।
এই লেখায় আমরা ব্যাগকে দুই ভাগে ভাগ করে ভাবব: হাতব্যাগ (যা সবসময় আপনার সঙ্গে থাকবে) আর পরীক্ষা করা লাগেজ (যা বিমানের মালবাহী অংশে যাবে)।
সতর্কতা: কোন জিনিস নেওয়া যাবে, কত ওজন পর্যন্ত যাবে, কোন ওষুধ বা খাবার নিষিদ্ধ আর কত নগদ টাকা সঙ্গে রাখা যাবে, এসব বিমান সংস্থা ও গন্তব্য দেশভেদে আলাদা। এই লেখায় কোনো ওজন বা অঙ্ক দেওয়া হয়নি। টিকিট কাটার সময় ও যাওয়ার আগে বিমান সংস্থা এবং অফিসিয়াল সূত্র থেকে নিজে নিশ্চিত হয়ে নিন।
হাতব্যাগে যা থাকবে (সবসময় আপনার সঙ্গে)
লাগেজ হারিয়ে গেলেও যেসব জিনিস ছাড়া আপনি চলতে পারবেন না, সেগুলো হাতব্যাগে রাখুন।
- কাগজপত্র: পাসপোর্ট, ভিসা, টিকিট, চুক্তি ও সরকারি কাগজ। পুরো তালিকা দেখুন বিদেশ যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা লেখায়।
- ফোন ও চার্জার: ফোন, চার্জার, পাওয়ার ব্যাংক। পাওয়ার ব্যাংক সাধারণত লাগেজে নেওয়া যায় না, হাতব্যাগে নিতে হয়, তবে সীমা ও নিয়ম বিমান সংস্থাভেদে আলাদা।
- নিয়মিত ওষুধ: প্রয়োজনীয় ওষুধ, সঙ্গে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনের কপি।
- প্রয়োজনীয় ঠিকানা ও ফোন নম্বর: কাগজে লেখা, কারণ ফোন বন্ধ বা চুরি হতে পারে। নিয়োগকর্তা, গন্তব্যের ঠিকানা, বাংলাদেশ দূতাবাস ও পরিবারের নম্বর।
- কলম: বিমানে ফর্ম পূরণের জন্য একটি কলম।
- এক সেট বাড়তি কাপড়: লাগেজ দেরিতে এলে কাজে লাগবে।
- অল্প নগদ টাকা: কত টাকা নেওয়া যাবে এবং ঘোষণা দিতে হবে কি না, নিয়ম দেখে নিন (যাচাই করুন)।
পরীক্ষা করা লাগেজে যা থাকবে
- জলবায়ু অনুযায়ী কাপড়: যে দেশে যাচ্ছেন, সেখানকার আবহাওয়া আগে জানুন। গরম, ঠান্ডা বা বৃষ্টির দেশ হলে জামাকাপড় আলাদা হবে। যা ভাবেন "পরে কিনে নেব", প্রথম মাসের টাকা বাঁচাতে মূল কাপড় সঙ্গে নেওয়াই ভালো।
- কাজের কাপড় ও জুতা: আপনার পেশা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পোশাক ও জুতা। কিছু কাজে নিয়োগকর্তা ইউনিফর্ম দেন, আগেই জেনে নিন।
- ব্যক্তিগত ব্যবহারের জিনিস: সাবান, টুথব্রাশ, চিরুনি, শেভিং সামগ্রী।
- প্লাগ অ্যাডাপ্টার: গন্তব্য দেশের সকেটের ধরন আলাদা হতে পারে। একটি অ্যাডাপ্টার সঙ্গে রাখা ভালো।
- অল্প শুকনা খাবার (ঐচ্ছিক): নেওয়ার আগে নিয়ম দেখুন, নিচে দেখুন।
- ছোট তালা: লাগেজ আটকানোর জন্য, তবে কিছু বিমানবন্দরে নিরাপত্তার জন্য তালা খোলা হতে পারে।
যা নেওয়ার আগে দুবার ভাবুন বা যাচাই করুন
- ওষুধ: কিছু দেশে নির্দিষ্ট ওষুধ বা ঘুমের ওষুধ জাতীয় জিনিস সঙ্গে আনা বেআইনি। প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রেসক্রিপশনসহ নিন এবং গন্তব্য দেশের নিয়ম আগে দেখুন।
- খাবার: অনেক দেশে মাংস, মাছ, ফল, মশলা বা ঘরে বানানো খাবার আনা নিষিদ্ধ বা সীমিত। অনিশ্চিত হলে নেবেন না।
- অন্যের দেওয়া প্যাকেট: পরিচিত কেউ "এটা একটু অমুকের কাছে পৌঁছে দিন" বলে ব্যাগ বা প্যাকেট দিলে না খুলে বা না জেনে নেবেন না। আপনি জেনে বা না জেনে নিষিদ্ধ কিছু বহন করলেও দায় আপনার ওপর আসতে পারে।
- নগদ বা মূল্যবান জিনিস: সীমার বেশি নিলে ঘোষণা দিতে হতে পারে।
- ধারালো জিনিস: ব্লেড, ছুরি বা কাঁচি হাতব্যাগে নেওয়া যায় না, লাগেজেও নিয়ম আছে।
সতর্কতা: কোনো অচেনা বা আধা-পরিচিত মানুষের দেওয়া ব্যাগ, প্যাকেট বা ওষুধ কখনো বহন করবেন না। এভাবে অনেকে নিজের অজান্তে বিপদে পড়েন। নিজের ব্যাগ গুছিয়ে নিজেই বন্ধ করুন এবং সবসময় নিজের নজরে রাখুন।
ব্যাগ গোছানোর সহজ নিয়ম
- এক সপ্তাহ আগে তালিকা বানান: কাগজে লিখে রাখুন, প্রতিটি জিনিসের পাশে টিক দিন।
- ওজন মাপুন: বিমান সংস্থার সীমা জেনে ঘরে ওজন করে নিন, নইলে বিমানবন্দরে বাড়তি খরচ বা জিনিস ফেলে দিতে হতে পারে।
- ভারী জিনিস নিচে: কাপড়ে মুড়ে ভঙ্গুর জিনিস নিরাপদে রাখুন।
- ব্যাগে নাম ও ঠিকানা: ভেতরে ও বাইরে নাম, গন্তব্যের ঠিকানা ও ফোন নম্বর লাগান, যাতে হারালে ফেরত পাওয়া যায়।
- ছবি তুলুন: ব্যাগ ও ভেতরের জিনিসের একটি ছবি ফোনে রাখুন। হারালে অভিযোগ করতে সুবিধা হবে।
- যাওয়ার আগের রাতে আবার মেলান: কাগজপত্র আর হাতব্যাগ সবচেয়ে আগে দেখুন।
বিমানবন্দরে প্রথমবার গেলে কী কী ধাপ পার হতে হয়, তা পড়ুন প্রথমবার বিদেশে গেলে বিমানবন্দরে কী কী করবেন লেখায়।
অফিসিয়াল সূত্র (নিজে যাচাই করুন)
কোন জিনিস নেওয়া নিষিদ্ধ বা সীমিত, তা আপনার বিমান সংস্থা ও গন্তব্য দেশের অফিসিয়াল সূত্রে দেখে নিন। অভিবাসী কর্মীদের জন্য সরকারি নির্দেশনা এখানে পাবেন। লিঙ্কগুলো নতুন ট্যাবে খুলবে।
- প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়: বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি ও যাওয়ার সময় করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা (সাইটের তথ্য অনুযায়ী)।
- অভিবাসন তথ্যকোষ (প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়): বই, পুস্তিকা ও লিফলেটের শ্রেণি।