স্থায়ীভাবে দেশে ফেরার আগে বিদেশের পাওনা বুঝে নেওয়ার তালিকা
পড়তে সময় লাগবে প্রায় ৪ মিনিট
বছরের পর বছর বিদেশে কাজ করে স্থায়ীভাবে ফেরার সময় অনেকে তাড়াহুড়ো করে বিমানে ওঠেন। ফলে বেতন, ছুটির পাওনা বা চুক্তি-শেষের সুবিধা বাকি থেকে যায়, কখনো কাগজপত্র গোছানো হয় না, কখনো ব্যাংক হিসাব বা ফোন সংযোগ খোলা পড়ে থাকে। দেশে ফেরার পর এসব ঠিক করা কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়। তাই ফেরার কয়েক সপ্তাহ আগে থেকে একটি চেকলিস্ট ধরে গুছিয়ে নেওয়া ভালো।
সতর্কতা: কোন পাওনা, কত এবং কোন নিয়মে, তা আপনার চুক্তি, দেশের শ্রম আইন ও নিয়োগকর্তার নিয়ম অনুযায়ী ভিন্ন। এখানে কোনো অঙ্ক বা নিয়ম বলা হয়নি। চুক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অফিসিয়াল তথ্য দেখুন। এটি আইনি পরামর্শ নয়।
১. চুক্তি ও পাওনা
- আপনার চুক্তি আবার পড়ুন: চুক্তি-শেষের সুবিধা, ছুটির পাওনা, ফেরার টিকিট ও বেতন সংক্রান্ত শর্ত। দেখুন বিদেশের চাকরির চুক্তিপত্র কীভাবে পড়বেন।
- নিয়োগকর্তাকে লিখিতভাবে জানান কবে ফিরছেন, এবং পাওনার হিসাব চান।
- শেষ বেতন, বকেয়া ওভারটাইম ও ছুটির পাওনা কবে ও কীভাবে পাবেন, তা লিখিত নিন।
- বেতন বাকি থাকলে করণীয় জানতে দেখুন বেতন না পেলে প্রবাসী কর্মী কী করতে পারেন।
২. কাগজপত্র
- পাসপোর্ট আপনার কাছে আছে কি না নিশ্চিত করুন। দেখুন নিয়োগকর্তা পাসপোর্ট রেখে দিলে করণীয়।
- কাজের অভিজ্ঞতা সনদ বা সুপারিশপত্র চান; দেশে ফিরে কাজ বা ব্যবসায় তা কাজে লাগবে। দেখুন নিজের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আয়ের উৎস তৈরি।
- বেতনের রসিদ, চুক্তির কপি, সরকারি কাগজপত্রের ছবি গুছিয়ে রাখুন। দেখুন প্রবাসে নিজের কাগজপত্র নিরাপদে রাখার নিয়ম।
- বাসস্থান অনুমতি বা ভিসা বাতিলের নিয়ম জানুন; ঠিকভাবে বাতিল না হলে ভবিষ্যতে সমস্যা হতে পারে। দেখুন রেসিডেন্স পারমিট কী ও নবায়নে কী মনে রাখবেন।
৩. ব্যাংক, ফোন ও দায়-দেনা
- ব্যাংক হিসাব বন্ধ করুন বা রাখবেন কি না ঠিক করুন; ব্যালেন্স কীভাবে দেশে আনবেন তা জেনে নিন।
- বিদেশে ঋণ, কিস্তি, ফোনের বা অন্য কোনো বকেয়া থাকলে মিটিয়ে নিন; নইলে ভবিষ্যতে সমস্যা হতে পারে।
- ফোন সংযোগ, ইন্টারনেট ও অন্যান্য চুক্তি বাতিল করুন।
- বন্ধুদের কাছ থেকে পাওনা বা তাঁদের কাছে দেনা মিটিয়ে নিন।
৪. সঞ্চয় ও টাকা পাঠানো
- পাওনা ও সঞ্চয় কীভাবে দেশে আনবেন, তা আগে ঠিক করুন; বেশি নগদ বহন না করে বৈধ পথে পাঠান। দেখুন বৈধ পথে টাকা পাঠানো কেন নিরাপদ ও টাকা পাঠানোর উপায় তুলনা করার ৫টি প্রশ্ন।
- রসিদ রাখুন। দেখুন টাকা পাঠানোর রসিদ ও প্রমাণ।
- দেশে ফিরে আর্থিক পরিকল্পনা শুরু করুন। দেখুন দেশে ফেরার আগে আর্থিক পরিকল্পনা কীভাবে শুরু করবেন।
৫. ফেরার ব্যবস্থা
- টিকিট কে দেবে, তা নিশ্চিত করুন।
- লাগেজ ও জিনিসপত্র: কী আনবেন, কী বিক্রি বা বিলিয়ে যাবেন। বিমানবন্দরের শুল্কের নিয়ম জানুন (যাচাই করুন)। দেখুন বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের জন্য সরকারি সেবা ও সুবিধা।
- পরিবারকে ফেরার তারিখ ও সময় জানান।
৬. মানসিক প্রস্তুতি
বিদেশ ছাড়ার সময় অনেকে মনখারাপে ভোগেন, আবার ফিরে এসেও মানিয়ে নিতে সময় লাগে। দেখুন দেশে ফেরার পর মানসিকভাবে মানিয়ে নেওয়ার উপায়।
ঝামেলা হলে
- নিয়োগকর্তা পাওনা না দিলে বা কাগজ আটকালে সব প্রমাণ গুছিয়ে দূতাবাস বা শ্রম কর্তৃপক্ষের সাহায্য নিন। দেখুন বিদেশে বিপদে পড়লে কার কাছে সাহায্য চাইবেন ও প্রবাসে বাংলাদেশ দূতাবাসের সেবাগুলো কী কী।
- প্রতারক "পাওনা আদায় করে দেব" বলে টাকা চাইলে সতর্ক হোন।
সাধারণ ভুল
- বিমানে ওঠার আগ পর্যন্ত পাওনার হিসাব না নেওয়া।
- লিখিত প্রমাণ ছাড়া মুখের কথায় নির্ভর করা।
- ঋণ বা দেনা বিদেশে ফেলে আসা।
- অভিজ্ঞতার সনদ না নেওয়া।
অফিসিয়াল সূত্র (নিজে যাচাই করুন)
এই তথ্যগুলো বদলাতে পারে, তাই সিদ্ধান্তের আগে সরকারি বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সাইটে মিলিয়ে নিন। লিঙ্কগুলো নতুন ট্যাবে খুলবে।
- প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়: প্রবাসী কর্মীদের জন্য সরকারি তথ্য, সেবা ও অভিযোগের ব্যবস্থা।
- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনের তালিকা এবং কনস্যুলার সেবার তথ্য।
- আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও): শ্রম অধিকার ও কর্মক্ষেত্রের আন্তর্জাতিক মান নিয়ে তথ্য।