প্রবাসীর স্ত্রীর জন্য টাকা সামলানোর পরামর্শ
পড়তে সময় লাগবে প্রায় ৪ মিনিট
স্বামী বিদেশে থাকলে সংসারের প্রায় সব সিদ্ধান্ত স্ত্রীকেই নিতে হয়: বাজার, সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা, আত্মীয়দের সঙ্গে সম্পর্ক, আর সবচেয়ে বড় কথা, টাকা সামলানো। এই দায়িত্ব অনেক সময় একা বহন করতে হয়, আবার চারপাশের অনেকের "টাকা চাওয়া"র চাপও সামলাতে হয়। এই লেখায় সহজ কিছু পরামর্শ আছে, যা সংসারের টাকা সুষ্ঠুভাবে সামলাতে সাহায্য করবে।
সতর্কতা: এটি আর্থিক বা আইনি পরামর্শ নয়। সংসার ও সম্পত্তি সংক্রান্ত বড় সিদ্ধান্তে স্বামীর সঙ্গে খোলাখুলি আলোচনা করুন এবং প্রয়োজনে বিশ্বস্ত আইনজীবীর পরামর্শ নিন। অচেনা কারও কথায় টাকা বা তথ্য দেবেন না।
১. হিসাব রাখার অভ্যাস
- প্রতিদিনের বা সপ্তাহের খরচ একটি খাতায় লিখে রাখুন। বাজার, ওষুধ, স্কুলের খরচ, বিল।
- মাসের শুরুতে স্বামীর পাঠানো টাকা কত এসেছে লিখুন, আর শেষে কত বাকি আছে।
- হিসাব রাখলে স্বামীর সঙ্গে কথা বলা সহজ হয়, কোথায় বেশি খরচ গেল, বোঝাও যায়। সহজ ছক পাবেন পরিবারের মাসিক খরচের বাজেট কীভাবে তৈরি করবেন লেখায়।
২. স্বামীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা
- কত টাকা আসা সম্ভব, কত দরকার, তা দুজনে মিলে ঠিক করুন। দেখুন পরিবারের জন্য কত টাকা পাঠাবেন: বাজেট করবেন কীভাবে।
- বড় সিদ্ধান্ত, যেমন সম্পত্তি কেনা, ঋণ নেওয়া বা কাউকে টাকা ধার দেওয়ার আগে স্বামীকে জানান ও আলোচনা করুন।
- নিজের প্রয়োজন ও চাপের কথাও স্পষ্টভাবে বলুন।
৩. সঞ্চয়ের অভ্যাস
- আয় এলেই কিছু অংশ সঞ্চয়ের জন্য আলাদা করুন; মাসের শেষে যা থাকবে তার অপেক্ষা করবেন না।
- জরুরি অবস্থার জন্য একটি তহবিল রাখুন। দেখুন মাসিক সঞ্চয়ের সহজ পরিকল্পনা।
- ব্যাংক হিসাব নিজের নামে বা যৌথভাবে রাখার সুবিধা-অসুবিধা ব্যাংক ও স্বামীর সঙ্গে আলোচনা করুন। দেখুন প্রবাসী (NRB) ব্যাংক হিসাব খোলার আগে যা জানা দরকার।
৪. টাকা গ্রহণ ও নিরাপত্তা
- টাকা ব্যাংক বা মোবাইল ওয়ালেটে এলে নিজের নামে নিবন্ধিত, কেওয়াইসি সম্পন্ন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করুন। দেখুন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আর মোবাইল ওয়ালেটে টাকা পাঠানোর পার্থক্য কী।
- পিন বা ওটিপি কাউকে বলবেন না; আত্মীয় বা "ব্যাংকের লোক" পরিচয় দিলেও নয়। দেখুন টাকা পাঠানোর সময় প্রতারণা এড়াবেন কীভাবে।
- টাকা এসেছে কি না অ্যাপ বা ব্যাংকে নিজে দেখে নিন।
- প্রতিটি রসিদ ও বার্তা গুছিয়ে রাখুন। দেখুন টাকা পাঠানোর রসিদ ও প্রমাণ।
৫. টাকার চাপ ও "না" বলা
- আত্মীয় বা প্রতিবেশী ধার চাইলে স্বামীর সঙ্গে আলোচনা না করে দেবেন না।
- বিনিয়োগ বা ব্যবসার নামে কেউ টাকা চাইলে সতর্ক হোন। দেখুন ভুয়া বিনিয়োগ প্রকল্প ও পনজি স্কিম চেনার উপায়।
- না বলা কঠিন, তাই বলতে পারেন, "আমার স্বামীর সঙ্গে কথা বলে জানাব।"
৬. কাগজপত্র ও সম্পত্তি
- স্বামীর পাসপোর্ট, ভিসা, চুক্তি ও নিয়োগকর্তার তথ্যের কপি নিজের কাছে রাখুন।
- সম্পত্তি কিনলে কার নামে হবে, তা ভেবেচিন্তে ঠিক করুন। দেখুন পরিবারের সদস্যের নামে সম্পত্তি করার সময় যা মাথায় রাখবেন।
- প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করলে ক্ষমতার সীমা বুঝে নিন। দেখুন বিদেশ থেকে পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি কীভাবে দেবেন।
৭. জরুরি অবস্থা
- স্বামী বিপদে পড়লে কার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, দূতাবাসের তথ্য ও নিয়োগকর্তার নম্বর হাতের কাছে রাখুন। দেখুন বিদেশে বিপদে পড়লে কার কাছে সাহায্য চাইবেন।
- টাকা বন্ধ হয়ে গেলে কী করবেন, তার একটি পরিকল্পনা রাখুন।
নিজের যত্ন নেওয়া
একা সংসার সামলানো ক্লান্তিকর। নিজের স্বাস্থ্য ও মনের যত্ন নিন, প্রয়োজনে বিশ্বস্ত কারও সঙ্গে কথা বলুন। দেখুন পরিবার দেশে রেখে প্রবাসে থাকা: সম্পর্ক ভালো রাখার উপায়।
সাধারণ ভুল
- হিসাব না রাখা।
- বড় সিদ্ধান্ত স্বামীকে না জানিয়ে নেওয়া বা উল্টো।
- অচেনা কাউকে পিন বা ব্যাংকের তথ্য দেওয়া।
- সব টাকা খরচ করে সঞ্চয় না রাখা।
অফিসিয়াল সূত্র (নিজে যাচাই করুন)
এই তথ্যগুলো বদলাতে পারে, তাই সিদ্ধান্তের আগে সরকারি বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সাইটে মিলিয়ে নিন। লিঙ্কগুলো নতুন ট্যাবে খুলবে।
- বাংলাদেশ ব্যাংক: রেমিট্যান্স, ব্যাংকিং সুবিধা ও গ্রাহকের অভিযোগ কেন্দ্রের তথ্য।
- প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়: প্রবাসী কর্মীদের জন্য সরকারি তথ্য, সেবা ও অভিযোগের ব্যবস্থা।
- বাংলাদেশ পুলিশ: পুলিশের সরকারি ওয়েবসাইট ও সেবার লিঙ্ক।