মূল লেখায় যান
সাবাশ বাংলাদেশ
পরিবার ও দেশে ফেরা

পরিবারের মাসিক খরচের বাজেট কীভাবে তৈরি করবেন

পড়তে সময় লাগবে প্রায় ৩ মিনিট

পরিবারের মাসিক খরচের বাজেট কীভাবে তৈরি করবেন

প্রবাসের আয়ে চলা পরিবারে টাকা আসে মাসে একবার বা কয়েকবার। কিন্তু খরচ চলে প্রতিদিন। একটি সহজ বাজেট না থাকলে মাস শেষের আগেই টাকা ফুরোয়, আর সেই সঙ্গে শুরু হয় ধার, দুশ্চিন্তা আর বিদেশে থাকা সদস্যের কাছে বাড়তি টাকা চাওয়া। বাজেট মানে হিসাব কষে কষ্ট করা নয়। এর উদ্দেশ্য, টাকা কোথায় যাচ্ছে তা জানা ও সামলানো।

এই লেখা পরিবারের যিনি টাকা সামলান (স্ত্রী, বাবা-মা বা অন্য কেউ) এবং বিদেশে থাকা সদস্য, দুজনের জন্য। কোনো নির্দিষ্ট অঙ্ক বলা হয়নি, কারণ সবার পরিস্থিতি আলাদা।

সতর্কতা: এটি সাধারণ আর্থিক ধারণা, ব্যক্তিগত পরামর্শ নয়। আপনার পরিবারের আকার, এলাকা ও প্রয়োজন অনুযায়ী খাত ও অঙ্ক ভিন্ন হবে।

ধাপ ১: আয় লিখুন

  • প্রতি মাসে নিশ্চিত যে টাকা আসে (প্রবাসী আয় ও অন্য কোনো আয়) তা লিখুন।
  • যা নিশ্চিত নয় (বোনাস, ওভারটাইম), তা আলাদা রাখুন, মূল হিসাবে ধরবেন না।
  • টাকা কবে আসে, তা মনে রাখুন; মাসের কোন সময়ে খরচ বেশি, তাও।

ধাপ ২: খরচের খাত ঠিক করুন

খাতউদাহরণধরন
খাবারচাল, ডাল, সবজি, মাছ-মাংস, বাজারনিয়মিত
বাসস্থানবাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাসনিয়মিত
শিক্ষাস্কুলের বেতন, বই, প্রাইভেটনিয়মিত
স্বাস্থ্যওষুধ, ডাক্তারনিয়মিত/অনিয়মিত
যাতায়াত ও যোগাযোগভাড়া, ফোন, ইন্টারনেটনিয়মিত
ঋণ ও কিস্তিপুরোনো ঋণের কিস্তিনিয়মিত
সামাজিক ও উৎসবঈদ, বিয়ে, আত্মীয়দের অনুষ্ঠানঅনিয়মিত, তবে আগে থেকে জানা
মেরামত ও জরুরিঘর মেরামত, হঠাৎ প্রয়োজনঅনিয়মিত
সঞ্চয়মাসিক জমা, জরুরি তহবিলনিয়মিত

ধাপ ৩: গত দু-তিন মাসের হিসাব দেখুন

অনুমানের বদলে বাস্তব খরচ দেখুন। খাতায় বা ফোনের নোটে গত কয়েক মাসের খরচ লিখুন। অনেক সময় দেখা যায়, কিছু ছোট ছোট খরচ মিলিয়ে বড় অঙ্ক হয়ে যায়।

ধাপ ৪: সীমা ঠিক করুন

  • প্রতিটি খাতের জন্য মাসিক একটি সীমা ঠিক করুন।
  • অনিয়মিত খরচ, যেমন ঈদ বা বছরের বড় খরচের জন্য প্রতি মাসে ছোট একটি অংশ আলাদা করুন।
  • সঞ্চয় আগে কেটে আলাদা রাখুন। দেখুন মাসিক সঞ্চয়ের সহজ পরিকল্পনা।

ধাপ ৫: প্রবাসী ও পরিবার একসঙ্গে ঠিক করুন

ধাপ ৬: মাস শেষে মেলান

  • কোন খাতে বেশি গেল, কোনটিতে কম? কারণ কী?
  • পরের মাসের জন্য সীমা বদলান।
  • কিছু বাঁচলে তা সঞ্চয় বা জরুরি তহবিলে নিন।

ঋণের কথা মাথায় রাখুন

ঋণ থাকলে কিস্তি বাজেটের প্রথম দিকের খাত। নতুন ঋণ করার আগে ভাবুন: ঋণ ও সুদের ফাঁদ এড়ানোর নিয়ম। আয় কীভাবে ভাগ করবেন, তার বড় ছবি পাবেন প্রবাসী আয় কীভাবে ভাগ করবেন লেখায়।

সাধারণ ভুল

  • হিসাব না লিখে স্মৃতির ওপর নির্ভর করা।
  • অনিয়মিত খরচকে "হঠাৎ" ধরে আগে থেকে জমা না রাখা।
  • সঞ্চয় শেষে রাখা, কিছু বাঁচবে ভেবে।
  • বাজেট বানিয়ে বিদেশে থাকা সদস্যকে না জানানো।

অফিসিয়াল সূত্র (নিজে যাচাই করুন)

এই তথ্যগুলো বদলাতে পারে, তাই সিদ্ধান্তের আগে সরকারি বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সাইটে মিলিয়ে নিন। লিঙ্কগুলো নতুন ট্যাবে খুলবে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

উত্তরগুলো খোলা আছে। কোনো প্রশ্নে চাপ দিলে সেটা বন্ধ হবে, আবার চাপলে খুলবে।

বাজেট বানাতে কী কী লাগে?
একটি খাতা বা ফোনের নোট, আয় ও গত কয়েক মাসের খরচের হিসাব এবং পরিবারের সঙ্গে সরল আলোচনা।
খরচ আয়ের চেয়ে বেশি হলে কী করব?
অপ্রয়োজনীয় খরচ খুঁজে কমান, প্রয়োজনে খাতভিত্তিক সীমা বদলান এবং নতুন ঋণ না নিয়ে আগে হিসাব মেলান।
ঈদ বা বিয়ের মতো বড় খরচের জন্য কীভাবে প্রস্তুত হব?
আগে থেকে মাসে ছোট ছোট অংশ আলাদা করে রাখুন, যাতে ওই সময় ঋণ করতে না হয়।
বাজেট কতদিন পরপর দেখব?
প্রতি মাসের শেষে একবার, আর আয় বা খরচ বদলালে আবার।
বিদেশ থেকে আসা টাকা অনিয়মিত হলে কী করব?
নিশ্চিত আয়ের ভিত্তিতে বাজেট করুন, বাড়তি টাকা সঞ্চয়ে নিন এবং কয়েক মাসের জরুরি তহবিল তৈরির চেষ্টা করুন।

লেখাটি শেয়ার করুন

হোয়াটসঅ্যাপ ফেসবুক মেসেঞ্জার

পরিবার ও দেশে ফেরা

দেশে ফিরে নতুন করে শুরু করার ছোট ব্যবসার ধারণা

প্রবাস থেকে ফিরে কী ধরনের ছোট ব্যবসা বা কাজ ভেবে দেখতে পারেন, কোন ধারণা কার জন্য উপযোগী, কীভাবে বাছাই করবেন এবং ঝুঁকি কী...

পরিবার ও দেশে ফেরা

সন্তানের পড়াশোনার জন্য প্রবাসী বাবা-মায়ের পরিকল্পনা

বাবা বা মা বিদেশে থাকলে সন্তানের পড়াশোনার খরচ, দেখভাল ও মানসিক সহায়তা কীভাবে পরিকল্পনা করবেন, কীভাবে সঞ্চয় ঠিক করবেন,...

পরিবার ও দেশে ফেরা

পরিবার দেশে রেখে প্রবাসে থাকা: সম্পর্ক ভালো রাখার উপায়

দূরে থাকলে সম্পর্কে ফাঁক তৈরি হয়। স্ত্রী, সন্তান ও বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখতে নিয়মিত যোগাযোগ, টাকার আলোচনা,...