মূল লেখায় যান
সাবাশ বাংলাদেশ
দেশের কাগজপত্র ও সেবা

প্রবাসী (NRB) ব্যাংক হিসাব খোলার আগে যা জানা দরকার

আপডেট: পড়তে সময় লাগবে প্রায় ৪ মিনিট

প্রবাসী (NRB) ব্যাংক হিসাব খোলার আগে যা জানা দরকার

বিদেশে থেকে দেশে টাকা পাঠান, কিন্তু সেই টাকা কোথায় জমা হচ্ছে? অনেকে সব টাকা পরিবারের কারও অ্যাকাউন্টে পাঠান, নিজের নামে কিছুই থাকে না। অথচ নিজের নামে একটা ব্যাংক হিসাব থাকলে সঞ্চয়, বিনিয়োগ, জমি কেনা বা ঋণ নেওয়া সব সহজ হয়।

সতর্কতা: ব্যাংকের হিসাবের ধরন, নাম, মুনাফার হার, ফি, প্রয়োজনীয় কাগজ ও নিয়ম ব্যাংকভেদে আলাদা এবং বদলায়। এই লেখায় কোনো ব্যাংকের হার বা নির্দিষ্ট ফি দেওয়া হয়নি। সিদ্ধান্তের আগে ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা শাখা থেকে সরাসরি জেনে নিন (যাচাই করুন)।

NRB হিসাব কী?

NRB মানে Non-Resident Bangladeshi, অর্থাৎ যে বাংলাদেশি নাগরিক বিদেশে বসবাস বা কাজ করেন। প্রবাসীদের জন্য ব্যাংকগুলো সাধারণত আলাদা হিসাবের সুবিধা দেয়। এর কোনো কোনোটি টাকা (BDT) হিসাবে, কোনোটি বৈদেশিক মুদ্রায় রাখার সুযোগ দেয়। হিসাবের নাম ও বৈশিষ্ট্য ব্যাংকভেদে ভিন্ন। কোন ব্যাংকে কোন ধরনের হিসাব আছে, তা ব্যাংককে সরাসরি জিজ্ঞেস করুন।

একটা বিষয়ে সতর্ক থাকুন: বাংলাদেশে "NRB" নামের কিছু ব্যাংকও আছে। প্রবাসী হিসাব মানে ওই নামের ব্যাংক নয়। দুটো আলাদা বিষয়, নামের মিল দেখে বিভ্রান্ত হবেন না।

কেন নিজের নামে হিসাব রাখবেন?

  • আয়ের প্রমাণ: নিজের নামের হিসাবে নিয়মিত টাকা আসার ইতিহাস ঋণ, জমি কেনা বা অন্য আর্থিক কাজে প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগতে পারে।
  • সঞ্চয় ও বিনিয়োগ: নিজের হিসাব থাকলে সঞ্চয়পত্র, ডিপিএস বা অন্য পরিকল্পনায় যাওয়া সহজ হয়।
  • নিয়ন্ত্রণ: টাকা আপনার নিজের হাতে থাকে, পরিবারের কারও নামে ফেলে রাখা টাকা নিয়ে পরে বিরোধ হওয়ার ঝুঁকি কমে।
  • প্রণোদনা: বৈধ পথে আসা রেমিট্যান্সের প্রণোদনা কীভাবে পাবেন, তা ব্যাংকের কাছে জানুন (হার ও শর্ত যাচাই করুন)।

সাধারণত কী কী কাগজ লাগে?

ব্যাংকভেদে তালিকা আলাদা, তবে সাধারণত এগুলোর কথা বলা হয় (সব কাগজ আছে কিনা ব্যাংকের কাছে যাচাই করুন):

  • পাসপোর্টের কপি
  • ভিসা, ওয়ার্ক পারমিট বা রেসিডেন্স কার্ডের (ইকামা বা সমতুল্য) কপি যা প্রমাণ করে আপনি বিদেশে বসবাস বা কাজ করেন
  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা জন্মনিবন্ধন সনদ
  • পাসপোর্ট সাইজ ছবি
  • বিদেশ ও দেশের ঠিকানা
  • নমিনির তথ্য ও ছবি
  • আয় বা চাকরির কিছু প্রমাণ (কাজের চুক্তি, বেতনের স্লিপ বা নিয়োগকর্তার চিঠি), ব্যাংকভেদে লাগতে পারে

কীভাবে খুলবেন?

পথ কয়েকটা হতে পারে, কোনটা সম্ভব তা ব্যাংকের ওপর নির্ভর করে:

  1. দেশে এসে শাখায় গিয়ে।
  2. বিশ্বস্ত কাউকে দিয়ে (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা অনুমোদনপত্র সহ)। এতে ঝুঁকি আছে, তাই খুব বিশ্বস্ত না হলে এই পথ এড়ানো ভালো।
  3. অনলাইনে বা অ্যাপে (e-KYC), কিছু ব্যাংক বিদেশ থেকেই হিসাব খোলার সুবিধা দেয়। তাদের নিয়ম ও শর্ত যাচাই করুন।

হিসাব খোলার আগে ব্যাংককে যে প্রশ্নগুলো করবেন

  1. আমার জন্য কোন ধরনের হিসাব আছে, তার নাম ও বৈশিষ্ট্য কী?
  2. ন্যূনতম জমা কত, না থাকলে কোনো জরিমানা আছে কি?
  3. বছরে বা মাসে কী কী চার্জ ও ফি কাটা হয়?
  4. মুনাফা বা সুদের হার কত, কীভাবে হিসাব হয়, কত দিন পরপর জমা হয়?
  5. বিদেশ থেকে টাকা পাঠানোর জন্য ব্যাংকের কোনো আলাদা সুবিধা বা অ্যাপ আছে কি?
  6. প্রণোদনা কীভাবে পাব এবং কতদিনে?
  7. ইন্টারনেট ব্যাংকিং, কার্ড ও এটিএম সুবিধা কেমন?
  8. টাকা তোলার বা স্থানান্তরের সীমা আছে কি?
  9. নমিনি কীভাবে যোগ বা বদলানো যায়? হিসাবধারীর মৃত্যু হলে প্রক্রিয়া কী?
  10. যৌথ হিসাবের সুবিধা আছে কি?

যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন

  • অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানে টাকা রাখা: ব্যাংকের বদলে "আমাদের স্কিমে টাকা রাখুন, মাসে মাসে মুনাফা" ধরনের প্রতিষ্ঠানে নয়। প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদিত কিনা যাচাই করুন।
  • অতিরিক্ত মুনাফার লোভ: বাজারের চেয়ে অনেক বেশি মুনাফার প্রলোভন বিপদ ডেকে আনতে পারে।
  • শুধু মুখের কথায় বিশ্বাস: শাখার কর্মকর্তা বা দালালের মুখের প্রতিশ্রুতি লিখিত না হলে ভরসা করবেন না।
  • পুরো টাকা অন্যের নামে: নিজের নামে হিসাব রাখুন আর নমিনি দিন।
  • ব্যক্তিগত তথ্য ও পিন কাউকে দেওয়া।

অফিসিয়াল সূত্র (নিজে যাচাই করুন)

এই লেখার তথ্য মিলিয়ে নিতে নিচের অফিসিয়াল সাইট দেখতে পারেন। লিঙ্কগুলো নতুন ট্যাবে খুলবে।

  • বাংলাদেশ ব্যাংক: দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট। ব্যাংকিং ও রেমিট্যান্স সংক্রান্ত অফিসিয়াল নির্দেশনা ও বিজ্ঞপ্তি এখানে দেখুন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

উত্তরগুলো খোলা আছে। কোনো প্রশ্নে চাপ দিলে সেটা বন্ধ হবে, আবার চাপলে খুলবে।

NRB ব্যাংক হিসাব মানে কী?
NRB মানে Non-Resident Bangladeshi, অর্থাৎ বিদেশে বসবাসরত বা কর্মরত বাংলাদেশি। ব্যাংকগুলো প্রবাসীদের জন্য সাধারণত বিশেষ হিসাবের সুবিধা দেয়। হিসাবের নাম, শর্ত ও সুবিধা ব্যাংকভেদে আলাদা, তাই সরাসরি ব্যাংকের কাছ থেকে জেনে নিন। মনে রাখবেন, "NRB" নামে কিছু ব্যাংকও আছে। প্রবাসী হিসাব বলতে ওই নামের ব্যাংক বোঝায় না।
বিদেশে বসেই কি ব্যাংক হিসাব খোলা যায়?
কিছু ব্যাংক অনলাইন বা অ্যাপের মাধ্যমে (e-KYC) প্রবাসীদের হিসাব খোলার সুযোগ দেয়, কিছু ব্যাংকে দেশে এসে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে খুলতে হয়। কোন ব্যাংকে কোন সুবিধা আছে ও শর্ত কী, তা ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা শাখা থেকে যাচাই করুন। প্রতিনিধির মাধ্যমে করলে অবশ্যই খুব বিশ্বস্ত কাউকে বেছে নিন।
কোন কোন কাগজ লাগে?
সাধারণত পাসপোর্ট, ভিসা বা রেসিডেন্স কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন, ছবি, নমিনির তথ্য এবং কিছু ক্ষেত্রে আয়ের প্রমাণ লাগে। ব্যাংকভেদে আলাদা, তাই যাওয়ার আগে ব্যাংকের কাছ থেকে সম্পূর্ণ তালিকা লিখিত বা ওয়েবসাইট থেকে নিন।
প্রবাসী হিসাবে মুনাফা কত পাওয়া যায়?
মুনাফার হার ব্যাংক, হিসাবের ধরন ও সময়ের ওপর নির্ভর করে এবং বদলায়। আমরা কোনো হার দিচ্ছি না। কয়েকটি ব্যাংকের অফিসিয়াল তথ্য পাশাপাশি রেখে তুলনা করুন, আর খরচ ও ফি-ও হিসাবে ধরুন (যাচাই করুন)।
সব টাকা পরিবারের কারও নামে পাঠালে সমস্যা কী?
সমস্যা কয়েকটা হতে পারে: ওই টাকার ওপর আপনার আইনি প্রমাণ থাকে না, পরে পারিবারিক বিরোধ হলে টাকা ফেরত পাওয়া কঠিন হতে পারে, আর আপনার নিজের আয়ের ইতিহাস তৈরি হয় না। পরিবারের খরচের জন্য পাঠানো আলাদা, কিন্তু সঞ্চয়ের একটা অংশ নিজের নামে নিজের হিসাবে রাখাই নিরাপদ।

লেখাটি শেয়ার করুন

হোয়াটসঅ্যাপ ফেসবুক মেসেঞ্জার

দেশের কাগজপত্র ও সেবা

বিদেশ থেকে পাসপোর্ট নবায়ন কীভাবে করবেন

পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বিদেশে থেকে নবায়নের সাধারণ ধাপ, কী কাগজ লাগতে পারে, কোথায় তথ্য পাবেন এবং কোন ভুল এড়া...

দেশের কাগজপত্র ও সেবা

প্রবাসীদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): নিবন্ধন ও সংশোধন

প্রবাসে থাকা নাগরিকের জাতীয় পরিচয়পত্র কেন দরকার, নিবন্ধন বা সংশোধনের সাধারণ ধাপ কেমন এবং কাগজ বা টাকা দেওয়ার আগে কী স...

দেশের কাগজপত্র ও সেবা

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সেবা কী কী

প্রবাসী কর্মী ও তাঁদের পরিবারের জন্য ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড কী ধরনের সহায়তা দেয়, কীভাবে খোঁজ নেবেন এবং ভুয়া দাবি...