মূল লেখায় যান
সাবাশ বাংলাদেশ
প্রবাস জীবন

বিদেশে অসুস্থ হলে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যবিমা নিয়ে জানার কথা

পড়তে সময় লাগবে প্রায় ৪ মিনিট

বিদেশে অসুস্থ হলে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যবিমা নিয়ে জানার কথা

প্রবাসে কাজ করা মানে প্রায়ই অনেক পরিশ্রম, অনিয়মিত ঘুম, নতুন আবহাওয়া আর অচেনা খাবার। এর মধ্যে অসুস্থ হওয়া খুব স্বাভাবিক। কিন্তু দেশে যেমন চেনা ডাক্তার, চেনা ফার্মেসি থাকে, বিদেশে তা থাকে না। তাই অসুস্থ হওয়ার আগে কিছু জিনিস জেনে নেওয়া অনেক কাজে লাগে।

এই লেখায় তিনটি বিষয় নিয়ে আলোচনা: অসুস্থ হলে কোথায় যাবেন, চিকিৎসার খরচ কীভাবে সামলাবেন এবং কাজের জায়গায় আঘাত পেলে কী করবেন। চিকিৎসার ব্যবস্থা দেশভেদে আলাদা, তাই এখানে সাধারণ ধারণা দেওয়া হলো।

সতর্কতা: এই লেখা চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। জরুরি অবস্থায় (শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, গুরুতর আঘাত, অজ্ঞান হওয়া) নিজে চিকিৎসা না করে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় জরুরি সেবার নম্বরে ফোন করুন বা কাছের হাসপাতালে যান। স্বাস্থ্যবিমা, চিকিৎসার খরচ ও কর্মীর অধিকার দেশ ও চাকরির ধরনভেদে আলাদা।

অসুস্থ হওয়ার আগেই যা জেনে রাখবেন

  • জরুরি নম্বর: স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশের নম্বর ফোনে সংরক্ষণ করুন। নম্বরটি দেশভেদে আলাদা, কাজের জায়গার কাউকে জিজ্ঞেস করুন।
  • কাছের ক্লিনিক ও হাসপাতাল: কাজের জায়গার কাছে কোথায় চিকিৎসা পাওয়া যায়, আগে জানুন।
  • নিয়োগকর্তার ব্যবস্থা: চিকিৎসার জন্য নিয়োগকর্তা কী দেন: ক্লিনিক, বিমা কার্ড বা অন্য ব্যবস্থা? কাকে জানাতে হবে?
  • নিজের স্বাস্থ্যের তথ্য: কোনো রোগ, অ্যালার্জি বা নিয়মিত ওষুধ থাকলে একটা কাগজে লিখে সঙ্গে রাখুন।

স্বাস্থ্যবিমা কী এবং কেন দরকার

স্বাস্থ্যবিমা মানে আগে থেকে একটি ব্যবস্থায় অংশ নেওয়া, যাতে অসুস্থ হলে চিকিৎসার খরচের একটি অংশ বা বড় অংশ সেই ব্যবস্থা থেকে মেটানো যায়। বিদেশে চিকিৎসা অনেক সময় ব্যয়বহুল হয়, তাই বিমা থাকলে বড় আর্থিক ধাক্কা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

  • কিছু দেশে নিয়োগকর্তাকে স্বাস্থ্যবিমা দিতে হয়। সব দেশে বা সব কাজে এটা নয়। আপনার চুক্তিতে কী আছে, দেখুন।
  • বিমায় কী ঢাকা পড়ে, কী পড়ে না: সব রোগ বা চিকিৎসা বিমার মধ্যে না-ও থাকতে পারে। পূর্ব থেকে থাকা রোগ, দাঁত বা চোখের চিকিৎসা প্রায়ই আলাদা শর্তে থাকে।
  • কার্ড ও কাগজ: বিমা কার্ডের নম্বর, কোন হাসপাতালে সেবা পাবেন, তা জেনে রাখুন। কার্ডের ছবি ফোনে রাখুন।
  • খরচ: বিমার কিস্তি (প্রিমিয়াম) কে দেবে এবং চিকিৎসার সময় আপনাকে কত দিতে হবে, তা চুক্তি ও বিমার কাগজে দেখুন (যাচাই করুন)। বেতন থেকে কাটলে হিসাব চান।

নিজে বিমা কেনার কথা ভাবলে ভালো করে তুলনা করুন এবং ভুয়া বিমা এড়ান। বিমার নামে অগ্রিম বড় টাকা চাওয়া, কাগজ না দেওয়া বা আপনার নামে নিবন্ধন না থাকা: এসব বিপদের লক্ষণ।

অসুস্থ হলে ধাপে ধাপে কী করবেন

  1. জরুরি হলে সঙ্গে সঙ্গে সাহায্য নিন: নিজে সামলাতে চেষ্টা করবেন না। সহকর্মী বা প্রতিবেশীকে ডাকুন, জরুরি নম্বরে ফোন করুন।
  2. নিয়োগকর্তাকে জানান: কাজ থেকে ছুটি, চিকিৎসার ব্যবস্থা, বিমা ব্যবহারের জন্য তাঁকে জানানো দরকার। সম্ভব হলে লিখিতভাবে বা বার্তায় জানান, যাতে প্রমাণ থাকে।
  3. চিকিৎসকের কাগজ রাখুন: প্রেসক্রিপশন, রিপোর্ট ও রসিদ রাখুন। ছুটি বা বিমার দাবিতে লাগে।
  4. ওষুধ ঠিকমতো খান: চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে, নিজে নিজে বাড়ানো-কমানো না করে।
  5. পরিবারকে জানান: কতটা অসুস্থ, কে দেখছে, তা পরিবারকে বলুন। চেপে গেলে পরে বিপদ বাড়ে।

কাজের জায়গায় আঘাত পেলে

  • আঘাত ছোট মনে হলেও নিয়োগকর্তা বা তত্ত্বাবধায়ককে জানান এবং ঘটনা লিখে রাখুন: কবে, কোথায়, কীভাবে।
  • চিকিৎসা নিন এবং ডাক্তারের রিপোর্ট রাখুন।
  • অনেক দেশে কাজের জায়গার দুর্ঘটনায় চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণের নিয়ম আছে। আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য, তা নিয়োগকর্তা, দূতাবাস বা সে দেশের শ্রম কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানুন।
  • কেউ "চুপ থাকুন, ঠিক হয়ে যাবে" বলে ঘটনা চাপা দিতে চাইলে সতর্ক হোন। কাগজে না থাকলে পরে দাবি করা কঠিন হয়।

বিপদ বাড়লে সাহায্যের আরও পথের কথা পড়ুন বিদেশে বিপদে পড়লে কার কাছে সাহায্য চাইবেন লেখায়।

প্রতিদিনের শরীর ঠিক রাখার ছোট অভ্যাস

  • পানি: গরম আবহাওয়ায় বা বাইরে কাজ করলে নিয়মিত পানি পান করুন। কাজের মাঝে বিরতি নিন।
  • ঘুম: কাজের ফাঁকে যতটা পারেন বিশ্রাম নিন। ঘুম কম হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।
  • খাবার: সম্ভব হলে সময়মতো ও পুষ্টিকর খাবার। ঘন ঘন বাইরের ভাজাপোড়া খাওয়া এড়ান।
  • নিরাপত্তা সরঞ্জাম: হেলমেট, গ্লাভস, জুতা: কাজের নিয়ম অনুযায়ী পরুন। না দিলে চান।
  • মন: মন খারাপ বা চাপ বাড়লে অবহেলা করবেন না। দেখুন প্রবাসে মানসিক চাপ ও একাকিত্ব সামলানোর উপায়।

অফিসিয়াল সূত্র (নিজে যাচাই করুন)

অভিবাসী কর্মীদের স্বাস্থ্যসেবা ও সাহায্যের তথ্য এই সূত্রগুলোতে দেখতে পারেন। লিঙ্কগুলো নতুন ট্যাবে খুলবে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

উত্তরগুলো খোলা আছে। কোনো প্রশ্নে চাপ দিলে সেটা বন্ধ হবে, আবার চাপলে খুলবে।

বিদেশে অসুস্থ হলে প্রথমে কোথায় যাব?
জরুরি অবস্থা হলে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় জরুরি নম্বরে ফোন করুন বা কাছের হাসপাতালে যান। সাধারণ অসুস্থতায় নিয়োগকর্তা যে ক্লিনিক বা ব্যবস্থার কথা বলেছেন, সেখানে যান এবং নিয়োগকর্তাকে জানান।
চিকিৎসার খরচ কি নিয়োগকর্তা দেবেন?
এটা দেশ, চাকরির ধরন ও আপনার চুক্তির ওপর নির্ভর করে। কিছু ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা বা বিমা খরচ বহন করে, কিছু ক্ষেত্রে কর্মীকেও কিছু দিতে হয়। চুক্তি পড়ে দেখুন এবং নিয়োগকর্তার কাছে লিখিতভাবে জেনে নিন।
স্বাস্থ্যবিমা কি সব কর্মীর থাকে?
না। কিছু দেশে নিয়োগকর্তাকে বিমা দিতে হয়, সব দেশে বা সব কাজে নয়। আপনার চুক্তি ও নিয়োগকর্তার কাছ থেকে জেনে নিন আপনার বিমা আছে কি না, আর কার্ডে কী কী ঢাকা পড়ে।
কাজ করতে গিয়ে আহত হলে কি ক্ষতিপূরণ পাব?
অনেক দেশে কাজের জায়গার দুর্ঘটনায় চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণের নিয়ম আছে, তবে শর্ত আলাদা। ঘটনা লিখে রাখুন, ডাক্তারের রিপোর্ট ও রসিদ রাখুন এবং দূতাবাস বা সে দেশের শ্রম কর্তৃপক্ষ থেকে নিয়ম জেনে নিন।
অসুস্থতার কথা নিয়োগকর্তাকে জানালে কি চাকরি যাবে?
ভয় পাওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু লুকিয়ে রাখলে সমস্যা বড় হয় ও চিকিৎসা দেরি হয়। বিষয়টা শান্তভাবে ও সম্ভব হলে লিখিতভাবে জানান। কোনো অন্যায় আচরণ হলে প্রমাণ রাখুন এবং দূতাবাস বা অভিযোগের পথ খুঁজুন।

লেখাটি শেয়ার করুন

হোয়াটসঅ্যাপ ফেসবুক মেসেঞ্জার

প্রবাস জীবন

নতুন দেশে পৌঁছে প্রথম সপ্তাহে কী কী করবেন

নতুন দেশে প্রথম সাত দিনের সিদ্ধান্তগুলো পরের মাসগুলোর নিরাপত্তা ঠিক করে দেয়। পৌঁছানোর প্রথম দিন থেকে সপ্তম দিন পর্যন্ত...

প্রবাস জীবন

রেসিডেন্স পারমিট (ইকামা) কী ও নবায়নে কী মনে রাখবেন

বিদেশে থাকার বৈধ অনুমতিই রেসিডেন্স পারমিট। এটা কী, কেন মেয়াদ গুরুত্বপূর্ণ, নবায়নে কী কী সতর্কতা রাখবেন এবং মেয়াদ শেষ...

প্রবাস জীবন

প্রবাসে মানসিক চাপ ও একাকিত্ব সামলানোর উপায়

পরিবার থেকে দূরে, দীর্ঘ কাজের সময়, ঋণের চাপ আর একাকিত্ব: প্রবাসে মন খারাপ হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কোন লক্ষণ দেখলে সতর্ক হ...