ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে কী করবেন
পড়তে সময় লাগবে প্রায় ৪ মিনিট
ভিসা বা বাসস্থান অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া অনেক প্রবাসীর বাস্তব সমস্যা। কখনো নিয়োগকর্তা সময়মতো নবায়ন করেননি, কখনো কাজ ছেড়ে দেওয়া বা কাগজ হারানোর কারণে মেয়াদ পেরিয়ে গেছে, আবার কখনো কেউ নিজের মেয়াদ খেয়ালই রাখেননি। বহু দেশে মেয়াদ পেরোলে জরিমানা, আটক বা বহিষ্কারের ঝুঁকি থাকে। তাই যত দ্রুত সম্ভব সঠিক পথে সমস্যাটি সামলানো দরকার।
সতর্কতা: প্রতিটি দেশের নিয়ম, জরিমানা ও সুযোগ আলাদা এবং বদলায়। এই লেখা আইনি পরামর্শ নয়। আপনার ক্ষেত্রে কী প্রযোজ্য, তা সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি সূত্র, নিয়োগকর্তা ও বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে নিশ্চিত হোন। 'টাকা দিলে ভিসা ঠিক করে দেব' বলা অচেনা মধ্যস্থতাকারী প্রতারক হতে পারে।
মেয়াদ কেন শেষ হয়
- নিয়োগকর্তা নবায়ন করেননি বা দেরি করেছেন।
- কাজ ছেড়ে দিয়েছেন বা চাকরি হারিয়েছেন, কিন্তু নতুন কাজ বা স্পনসর পাননি।
- পাসপোর্ট নিয়োগকর্তার কাছে আছে, নবায়নের সময় আপনি জানেননি। দেখুন নিয়োগকর্তা পাসপোর্ট রেখে দিলে করণীয়।
- পাসপোর্টের মেয়াদ কমে যাওয়ায় বাসস্থান অনুমতি নবায়ন করা যায়নি। দেখুন বিদেশ থেকে পাসপোর্ট নবায়ন কীভাবে করবেন।
- কাগজ হারিয়েছেন বা মেয়াদের তারিখ খেয়াল রাখেননি।
- ভুয়া বা অনিশ্চিত ভিসায় এসেছেন। দেখুন ওয়ার্ক ভিসা, ভিজিট ভিসা ও ফ্রি ভিসার পার্থক্য কী।
প্রথম পদক্ষেপ
- পরিস্থিতি নিশ্চিত করুন। ভিসা বা বাসস্থান অনুমতির সঠিক মেয়াদ কবে শেষ, তা ভালো করে দেখুন। সরকারি ওয়েবসাইট বা নিয়োগকর্তার কাছ থেকে নিশ্চিত হোন।
- লুকাবেন না। সমস্যা চেপে গেলে জরিমানা ও ঝুঁকি বাড়ে। সরাসরি নিয়োগকর্তাকে জানান।
- নিয়োগকর্তার সঙ্গে নবায়নের কথা বলুন। নবায়নের দায়িত্ব সাধারণত নিয়োগকর্তার; চুক্তিতে কী লেখা আছে দেখুন। দেখুন বিদেশের চাকরির চুক্তিপত্র কীভাবে পড়বেন।
- বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করুন। তারা আপনার দেশের নিয়ম সম্পর্কে নির্দেশনা দিতে পারে। দেখুন প্রবাসে বাংলাদেশ দূতাবাসের সেবাগুলো কী কী ও বিদেশে বিপদে পড়লে কার কাছে সাহায্য চাইবেন।
- কাগজ গুছিয়ে নিন। পাসপোর্ট, মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসা, চুক্তি, বেতনের রসিদ, নিয়োগকর্তার তথ্য।
সম্ভাব্য পথ (দেশভেদে ভিন্ন)
| পরিস্থিতি | সম্ভাব্য পথ |
|---|---|
| নিয়োগকর্তা নবায়ন করতে রাজি | নিয়োগকর্তার মাধ্যমে নবায়ন বা জরিমানা সংক্রান্ত নিয়ম জেনে মেটানো |
| নিয়োগকর্তা রাজি নন বা কাজ নেই | নতুন বৈধ কাজ/স্পনসর খোঁজা বা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশে ফেরার ব্যবস্থা |
| নিয়োগকর্তা বেতন বা কাগজ আটকে রেখেছেন | শ্রম কর্তৃপক্ষ ও দূতাবাসে অভিযোগ |
| দেশে ফিরতে চান | দূতাবাস ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রস্থান প্রক্রিয়া |
কোনো কোনো দেশে বিশেষ সময়ে সংশোধনের সুযোগ বা সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা হয়। এটি কখন হবে বা হবে কি না নিশ্চিত নয়; দূতাবাস বা সরকারি ঘোষণা দেখুন।
জরিমানা ও ঝুঁকি
- মেয়াদ পেরোলে জরিমানা হতে পারে (অঙ্ক দেশভেদে ভিন্ন, যাচাই করুন)।
- দীর্ঘদিন বেআইনি অবস্থায় থাকলে আটক বা বহিষ্কারের ঝুঁকি বাড়ে।
- ভবিষ্যতে সেই দেশে আবার যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।
- বেআইনি অবস্থায় কাজ করলে অধিকার রক্ষা কঠিন হয়ে পড়ে।
যা এড়াবেন
- পালিয়ে যাওয়া বা লুকিয়ে থাকা। এতে ঝুঁকি বাড়ে।
- দালাল ধরে "আকামা/ভিসা ঠিক" করানোর চেষ্টা, যা জাল কাগজের ফাঁদ হতে পারে।
- বেআইনি কাজ করে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা।
- পরিবারকে কিছু না জানানো। তারা দেশ থেকে সহায়তা করতে পারে।
ভবিষ্যতে এড়াতে
- ভিসা ও বাসস্থান অনুমতির মেয়াদ ক্যালেন্ডারে লিখে রাখুন এবং অন্তত কয়েক সপ্তাহ আগে নবায়নের কথা তুলুন। দেখুন রেসিডেন্স পারমিট কী ও নবায়নে কী মনে রাখবেন।
- পাসপোর্ট ও কাগজের ছবি রাখুন। দেখুন প্রবাসে নিজের কাগজপত্র নিরাপদে রাখার নিয়ম।
- ভিসা বাতিল বা সমস্যা হলে আগেভাগে পথ জানুন: ভিসা বাতিল বা প্রত্যাখ্যান হলে কী করবেন।
অফিসিয়াল সূত্র (নিজে যাচাই করুন)
এই তথ্যগুলো বদলাতে পারে, তাই সিদ্ধান্তের আগে সরকারি বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সাইটে মিলিয়ে নিন। লিঙ্কগুলো নতুন ট্যাবে খুলবে।
- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনের তালিকা এবং কনস্যুলার সেবার তথ্য।
- প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়: প্রবাসী কর্মীদের জন্য সরকারি তথ্য, সেবা ও অভিযোগের ব্যবস্থা।
- আইওএম (আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা): সাহায্য: অভিবাসী ও ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য সাহায্যের তথ্য।
- সৌদি মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়: সৌদি আরবের শ্রম মন্ত্রণালয় (সাইটটি আরবি ভাষায়)।