প্রবাসীদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): নিবন্ধন ও সংশোধন
পড়তে সময় লাগবে প্রায় ৩ মিনিট
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বাংলাদেশে ব্যাংক হিসাব খোলা, মোবাইল ওয়ালেটের কেওয়াইসি, সরকারি সেবা, জমির কাজ ও আরও অনেক জায়গায় প্রয়োজন হয়। প্রবাসে থাকলেও পরিবারের জন্য টাকা পাঠানো বা দেশের কাগজপত্রের কাজে এনআইডি কাজে লাগে। তবে বিদেশে থেকে নতুন নিবন্ধন বা সংশোধন করা নিয়ে অনেকের প্রশ্ন আছে।
এই লেখায় এনআইডির প্রয়োজন, নিবন্ধন ও সংশোধন নিয়ে সাধারণ ধারণা এবং সতর্কতা দেওয়া হলো। বিদেশ থেকে কোন সেবা কীভাবে পাওয়া যায়, তার সরকারি নিয়ম বদলাতে পারে। তাই সর্বশেষ নিয়ম অফিসিয়াল সূত্রে মিলিয়ে নিন।
সতর্কতা: এনআইডি নিবন্ধন ও সংশোধনের নিয়ম, কাগজ ও ফি বদলাতে পারে। বিদেশ থেকে কোন সেবা কীভাবে পাওয়া যায়, তা নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল তথ্য বা আপনার দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছ থেকে নিশ্চিত হোন। এনআইডি নম্বর বা আঙুলের ছাপ অচেনা কাউকে দেবেন না।
এনআইডি কেন দরকার
- ব্যাংক হিসাব ও কেওয়াইসি: প্রবাসী ও পরিবারের ব্যাংক বা মোবাইল ওয়ালেট অ্যাকাউন্টে। দেখুন বিকাশে প্রবাসী আয় পাওয়ার ধাপ।
- জমি ও সম্পত্তির কাজ: কেনাবেচা, নামজারি ও অন্যান্য নথিতে পরিচয় হিসেবে। দেখুন দেশে জমি কেনার আগে প্রবাসীর যাচাই-তালিকা।
- সরকারি সেবা: নানা সরকারি সেবা নিতে পরিচয় প্রমাণে।
- পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি ও অন্যান্য কাগজ: প্রতিনিধি নিয়োগে পরিচয়ের কাগজ হিসেবে।
নিবন্ধন: সাধারণ ধারণা
- এনআইডি পাওয়ার জন্য সাধারণত বয়স ও নাগরিকত্বের শর্ত পূরণ করতে হয়, এবং বায়োমেট্রিক তথ্য (আঙুলের ছাপ, ছবি) দিতে হয়।
- বিদেশে থাকা অবস্থায় প্রথমবারের নিবন্ধন কীভাবে হবে, তা নির্বাচন কমিশনের নিয়ম ও দূতাবাসের ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে। সময়ভেদে ব্যবস্থা বদলায়।
- অনেক ক্ষেত্রে ছুটিতে দেশে এলে নির্ধারিত অফিসে গিয়ে নিবন্ধন করা সহজ। আগে থেকে অফিসের তথ্য ও কাগজ জেনে নিন।
সংশোধন: কী কী ভুল হতে পারে
- নাম বা বানানের ভুল।
- বাবা-মায়ের নামে ভুল।
- জন্মতারিখ বা ঠিকানায় ভুল।
সংশোধনের জন্য সাধারণত প্রমাণ কাগজ লাগে, যেমন জন্মনিবন্ধন সনদ, শিক্ষাগত সনদ বা পাসপোর্ট। কোন ভুলের জন্য কোন কাগজ, তা অফিসিয়াল সূত্রে দেখুন। সন্তানের জন্মনিবন্ধন নিয়ে দেখুন প্রবাসে থাকলে সন্তানের জন্মনিবন্ধন ও কাগজপত্র।
পরিবারের সদস্যের সাহায্য নেওয়া
অনেক সময় দেশে পরিবারের সদস্য কাগজের কাজ এগিয়ে দেন। যদি আপনার সশরীরে হাজির হওয়া জরুরি না হয়, তাহলে প্রতিনিধি নিয়োগের জন্য বিদেশ থেকে ক্ষমতা অর্পণের কাগজ দিতে হতে পারে। দেখুন বিদেশ থেকে পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি কীভাবে দেবেন ও দেশের কাগজপত্র বিদেশ থেকে সত্যায়িত করার নিয়ম।
প্রতারণা থেকে সাবধান
- "টাকা দিলে ঘরে বসে এনআইডি করে দেব", এমন দালালকে বিশ্বাস করবেন না।
- অচেনা লিঙ্কে এনআইডি নম্বর বা জন্মতারিখ দিলে অ্যাকাউন্ট খোলায় অপব্যবহার হতে পারে।
- আপনার এনআইডির কপি কাউকে দিলে কী কাজে ব্যবহার হবে লিখে রাখুন।
সাধারণ ভুল
- ভুল আছে জেনেও পরে করব বলে ফেলে রাখা, পরে ব্যাংক বা ওয়ালেটের কেওয়াইসিতে আটকে যাওয়া।
- অন্যের এনআইডি দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলা।
- পুরোনো তথ্যে কাজ করা।
অফিসিয়াল সূত্র (নিজে যাচাই করুন)
এই তথ্যগুলো বদলাতে পারে, তাই সিদ্ধান্তের আগে সরকারি বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সাইটে মিলিয়ে নিন। লিঙ্কগুলো নতুন ট্যাবে খুলবে।
- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনের তালিকা এবং কনস্যুলার সেবার তথ্য।
- প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়: প্রবাসী কর্মীদের জন্য সরকারি তথ্য, সেবা ও অভিযোগের ব্যবস্থা।
- বাংলাদেশ ব্যাংক: রেমিট্যান্স, ব্যাংকিং সুবিধা ও গ্রাহকের অভিযোগ কেন্দ্রের তথ্য।