বিকাশে প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) পাওয়ার ধাপ
পড়তে সময় লাগবে প্রায় ৪ মিনিট
দেশে পরিবারের হাতে সহজে টাকা পৌঁছে দিতে অনেক প্রবাসী মোবাইল ওয়ালেট ব্যবহার করেন। বিকাশ এমনই একটি জনপ্রিয় মাধ্যম। তবে পাঠানোর কোন পথে বিকাশে টাকা যাবে, কত সময় লাগবে বা কত খরচ হবে, তা একই নয়। এটি নির্ভর করে আপনি কোন দেশ থেকে, কোন অ্যাপ বা এক্সচেঞ্জ হাউসের মাধ্যমে পাঠাচ্ছেন তার ওপর।
এই লেখায় বিকাশ অ্যাকাউন্টে প্রবাসী আয় পেতে সাধারণত কী কী লাগে, ধাপগুলো কেমন, আর কী কী ভুল এড়ানো যায়, তা সহজভাবে বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট ফি, রেট বা সীমা এখানে বলা হয়নি, কারণ এসব প্রতিদিন বা প্রতি সপ্তাহে বদলাতে পারে।
সতর্কতা: বিকাশের নিয়ম, সীমা ও ফি পরিবর্তন হতে পারে। প্রবাসী আয় বিকাশে কোন পথে পাঠানো যায়, তা আপনার পাঠানোর মাধ্যমের (অ্যাপ বা এক্সচেঞ্জ হাউস) নিজস্ব তালিকা ও বিকাশের অফিসিয়াল সূত্র থেকে মিলিয়ে নিন। নম্বর ভুল হলে টাকা ফেরানো কঠিন হতে পারে।
পরিবারের দিকে কী প্রস্তুত থাকা দরকার
- নিবন্ধিত অ্যাকাউন্ট: প্রাপকের নামে নিবন্ধিত ও যাচাই করা (কেওয়াইসি সম্পন্ন) বিকাশ অ্যাকাউন্ট থাকা ভালো। অসম্পূর্ণ অ্যাকাউন্টে সীমা কম থাকতে পারে বা টাকা আটকাতে পারে। কেওয়াইসি নিয়ে সমস্যা হলে দেখুন কেওয়াইসি বাতিল বা প্রত্যাখ্যান হলে কী করবেন।
- নিজের নামে অ্যাকাউন্ট: প্রাপকের নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে খোলা অ্যাকাউন্টই নিরাপদ। অন্যের নামে বা অন্যের নম্বরে টাকা নিলে ঝামেলা হতে পারে।
- সঠিক নম্বর: প্রাপকের বিকাশ নম্বর ১১ অঙ্কে ঠিকঠাক লেখা আছে কি না, দুবার মিলিয়ে নিন।
- পিন গোপন রাখা: পিন বা ওটিপি কাউকে বলবেন না, এমনকি কেউ প্রতিনিধি পরিচয় দিলেও নয়।
প্রবাসীর দিকে ধাপগুলো
- পাঠানোর মাধ্যম বেছে নিন: আপনার দেশ থেকে কোন অ্যাপ বা এক্সচেঞ্জ হাউস মোবাইল ওয়ালেটে টাকা পাঠায়, সেটি সেই মাধ্যমের অ্যাপ বা সাইটে দেখুন। তুলনা করতে পড়ুন বিদেশ থেকে টাকা পাঠানোর উপায় তুলনা করার ৫টি প্রশ্ন।
- প্রাপকের তথ্য দিন: নাম, বিকাশ নম্বর, ও প্রয়োজন হলে সম্পর্ক ও উদ্দেশ্য।
- পরিমাণ ও খরচ দেখে নিন: কত টাকা পাঠাচ্ছেন, কত ফি কাটছে, কোন রেটে বাংলাদেশি টাকায় পরিণত হচ্ছে, তা নিশ্চিতকরণের আগে মিলিয়ে নিন (যাচাই করুন)।
- নিশ্চিত করুন ও রসিদ সংরক্ষণ করুন: লেনদেন নম্বর বা রেফারেন্স কোড রাখুন। দেখুন টাকা পাঠানোর রসিদ ও প্রমাণ কেন সংরক্ষণ করবেন।
- পরিবারকে জানান: টাকা পাঠানো হয়েছে, পরিমাণ কত, কোন নম্বরে। তাদের বিকাশে বার্তা আসছে কি না জিজ্ঞেস করুন।
টাকা পেলে পরিবার কী দেখবে
- বিকাশ অ্যাপ বা ফোনে আসা বার্তায় পরিমাণ, প্রেরকের তথ্য ও লেনদেন নম্বর দেখুন।
- অ্যাপের লেনদেনের ইতিহাসে একই তথ্য আছে কি না মিলিয়ে নিন।
- অচেনা নম্বর থেকে আসা বার্তার লিঙ্কে ক্লিক করবেন না। সন্দেহজনক বার্তার ক্ষেত্রে সরাসরি অ্যাপ খুলে দেখুন।
টাকা না এলে
- প্রথমে পাঠানোর রসিদ ও লেনদেন নম্বর দেখুন। কখনো ব্যাংকিং সময়ের কারণে দেরি হয়।
- পাঠানোর মাধ্যমের সহায়তা কেন্দ্রে সেই লেনদেন নম্বর দিয়ে জানতে চান।
- নম্বর ভুল দিয়ে থাকলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট মাধ্যম ও সেবাদাতাকে জানান। দেখুন ভুল অ্যাকাউন্ট নম্বরে টাকা পাঠালে করণীয় ও পাঠানো টাকা পৌঁছায়নি? ধাপে ধাপে কী করবেন।
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নাকি মোবাইল ওয়ালেট
দুটোরই সুবিধা-অসুবিধা আছে। কোনটি আপনার পরিবারের জন্য উপযুক্ত, তা বুঝতে পড়ুন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আর মোবাইল ওয়ালেটে টাকা পাঠানোর পার্থক্য কী।
সাধারণ ভুল
- ফোন নম্বর ভুল লেখা বা এক অঙ্ক বাদ পড়া।
- প্রাপকের অ্যাকাউন্টের কেওয়াইসি আগে না মিলিয়ে বড় অঙ্ক পাঠানো।
- অজানা কাউকে "সাহায্যকারী" ভেবে পিন বা ওটিপি দিয়ে ফেলা।
- হুন্ডির মতো অবৈধ পথের লোভে পড়া। ঝুঁকি জানতে পড়ুন বৈধ পথে টাকা পাঠানো কেন নিরাপদ।
অফিসিয়াল সূত্র (নিজে যাচাই করুন)
এই তথ্যগুলো বদলাতে পারে, তাই সিদ্ধান্তের আগে সরকারি বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সাইটে মিলিয়ে নিন। লিঙ্কগুলো নতুন ট্যাবে খুলবে।
- বাংলাদেশ ব্যাংক: রেমিট্যান্স, ব্যাংকিং সুবিধা ও গ্রাহকের অভিযোগ কেন্দ্রের তথ্য।
- প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়: প্রবাসী কর্মীদের জন্য সরকারি তথ্য, সেবা ও অভিযোগের ব্যবস্থা।