ডিপিএস ও ফিক্সড ডিপোজিটের পার্থক্য
পড়তে সময় লাগবে প্রায় ৩ মিনিট
দেশে টাকা জমানোর সবচেয়ে পরিচিত দুটি পথ ব্যাংকের ডিপিএস আর ফিক্সড ডিপোজিট। নাম একই রকম শোনায়, কিন্তু কাজ আলাদা। কোনটি আপনার জন্য ঠিক, তা নির্ভর করে আপনি কীভাবে টাকা পান ও কবে প্রয়োজন হবে তার ওপর।
সতর্কতা: মুনাফার হার, মেয়াদ, ন্যূনতম অঙ্ক, কর ও মেয়াদের আগে ভাঙানোর নিয়ম ব্যাংকভেদে ও সময়ভেদে বদলায়। এখানে কোনো হার লেখা হয়নি। সিদ্ধান্তের আগে ব্যাংকের শাখা থেকে লিখিত শর্ত জেনে নিন।
এক নজরে পার্থক্য
| বিষয় | ডিপিএস | ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) |
|---|---|---|
| জমা দেওয়ার ধরন | প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্ক | একবারে এককালীন অঙ্ক |
| কার জন্য উপযুক্ত | যাঁর আয় নিয়মিত ও ছোট ছোট অঙ্ক জমান | যাঁর হাতে একসঙ্গে টাকা আছে |
| মেয়াদ | নির্দিষ্ট বছর/মাস | নির্দিষ্ট মাস/বছর |
| মুনাফা পাওয়া | সাধারণত মেয়াদ শেষে মোট টাকাসহ | মেয়াদ শেষে বা নির্দিষ্ট সময় পর পর, ব্যাংকের নিয়মে |
| নিয়মের কড়াকড়ি | মাস মিস করলে সমস্যা হতে পারে | একবার রাখলে তেমন ঝামেলা নেই |
| মেয়াদের আগে ভাঙানো | শর্ত ও কর্তন থাকতে পারে | শর্ত ও কর্তন থাকতে পারে |
ডিপিএস: কীভাবে কাজ করে
- প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট অঙ্ক জমা দিতে হয়, নির্দিষ্ট কয়েক বছর ধরে।
- মেয়াদ শেষে ব্যাংক আপনার জমা অঙ্ক ও মুনাফা মিলিয়ে একটি মোট অঙ্ক ফেরত দেয়।
- বিদেশ থেকে নিয়মিত টাকা পাঠালে পরিবার প্রতি মাসে জমা দিতে পারে। অনেক ব্যাংক স্বয়ংক্রিয় কর্তনের সুবিধা দেয় কি না জিজ্ঞেস করুন।
- মাসিক জমা মিস করলে জরিমানা বা সুবিধা কমার শর্ত থাকতে পারে।
ফিক্সড ডিপোজিট: কীভাবে কাজ করে
- একসঙ্গে একটি অঙ্ক নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ব্যাংকে রাখা হয়।
- মেয়াদ শেষে আসল ও মুনাফা পাওয়া যায়, অথবা নিয়ম থাকলে নির্দিষ্ট সময় পর পর মুনাফা তোলা যায়।
- আপনি হঠাৎ কিছু টাকা পেলে, যেমন বোনাস বা জমি বিক্রির টাকা, তখন উপযুক্ত।
কোনটি আপনার জন্য
- প্রতি মাসে নিয়মিত পাঠান, কিন্তু একসঙ্গে বড় অঙ্ক নেই: ডিপিএস সুবিধাজনক। দেখুন প্রবাসী আয় থেকে মাসিক সঞ্চয়ের সহজ পরিকল্পনা।
- হাতে একসঙ্গে টাকা আছে: ফিক্সড ডিপোজিট ভেবে দেখুন।
- জরুরি দরকারে টাকা তোলার সম্ভাবনা আছে: দুটোর কোনোটিতেই অতিরিক্ত নয়। আগে জরুরি তহবিল সহজে তোলা যায় এমন হিসাবে রাখুন।
- দুটিই ব্যবহার: অনেকে মাসিক ডিপিএস রাখেন ও বড় একটি অংশ এফডিআরে রাখেন।
ব্যাংককে জিজ্ঞেস করার প্রশ্ন
- বর্তমান মুনাফার হার কত এবং এটি কি স্থির না পরিবর্তনশীল (যাচাই করুন)?
- মুনাফার ওপর কর কীভাবে কাটে?
- মেয়াদের আগে ভাঙালে কী কর্তন হবে?
- মাসিক জমা মিস করলে কী হবে?
- মেয়াদ শেষে টাকা কীভাবে ও কোথায় পাব?
- অ্যাকাউন্ট খুলতে কী কাগজ লাগবে? প্রবাসী হলে কী বাড়তি কাগজ লাগে? দেখুন প্রবাসী (NRB) ব্যাংক হিসাব খোলার আগে যা জানা দরকার।
সরকারি সঞ্চয়ের সঙ্গে তুলনা
ব্যাংকের এ ধরনের জমার পাশাপাশি সরকারি সঞ্চয় ব্যবস্থার কথাও ভাবতে পারেন। দেখুন সঞ্চয়পত্র কী এবং প্রবাসীরা কি কিনতে পারেন।
সাধারণ ভুল
- মুনাফার হার দেখে ব্যাংকের নিরাপত্তা বা ব্যবস্থাপনা না দেখা।
- মাসিক জমা চালিয়ে যেতে পারবেন কি না না ভেবে বড় অঙ্ক বেছে নেওয়া।
- লিখিত শর্ত না নেওয়া।
- সব টাকা এক ব্যাংকে ও এক জায়গায় রাখা।
অফিসিয়াল সূত্র (নিজে যাচাই করুন)
এই তথ্যগুলো বদলাতে পারে, তাই সিদ্ধান্তের আগে সরকারি বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সাইটে মিলিয়ে নিন। লিঙ্কগুলো নতুন ট্যাবে খুলবে।
- বাংলাদেশ ব্যাংক: রেমিট্যান্স, ব্যাংকিং সুবিধা ও গ্রাহকের অভিযোগ কেন্দ্রের তথ্য।
- জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর): কর, টিআইএন ও ই-রিটার্ন সেবার সরকারি তথ্য।
- প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়: প্রবাসী কর্মীদের জন্য সরকারি তথ্য, সেবা ও অভিযোগের ব্যবস্থা।